বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের শাসক দল তথা বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্যে বেনজির আক্রমণ শানিয়ে, ‘গদ্দার শিবির’ বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার প্রসঙ্গে এদিন তিনি সরাসরি বললেন, ‘হলফনামা জমা দেওয়ার একটা নির্দেশ এসেছে’।
একইসাথে তিনি আরও জানান,.’যদিও এটা উৎসব, দুর্গাপুজোর মরশুম তার মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের আমাদের সহযোদ্ধারা সর্বস্তরের, তারা এই হলফনামা জমা দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া সেটা পুরোদস্তুর চালু রেখেছেন। অর্থাৎ ঠিক নির্দিষ্ট যে ফরম্যাটে এই হলফনামা জমা দেওয়ার কথা সেটা জমা দেওয়ার সমস্ত প্রক্রিয়া চলছে। এবং বিপুলসংখ্যক ইতিমধ্যেই প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে।’
বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বেনজির আক্রমণ কুণাল ঘোষের
এরপরেই শাসক শিবিরের উদ্দেশ্যে গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বললেন, ‘এখন হঠাৎ একটা খবর আসছে এবং অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে একাধিক জায়গা থেকে, একাধিক জেলা থেকে যেহেতু এই গদ্দারদের শিবির তাদের কোনো কর্মী বলে কিছু নেই তারা হলফনামা জমা দিতে পারছে না। সেই কারণে পুলিশকে নামানো হয়েছে তাদের সাহায্য করতে। অভিযোগ আসছে আমাদের কাছে, সমস্ত থানাকে, আমরা এটা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে এই অভিযোগ যদি সত্যি হয় আপনারা খতিয়ে দেখুন এটা অত্যন্ত মারাত্মক অভিযোগ।কি
কুণাল ঘোষের আরও সংযোজন, ‘প্রত্যেকটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্তত ১০০০ টি করে কোর্ট পেপার প্রত্যেকটি থানাকে তুলতে হবে, এবং থানার এলাকায় কাউকে দিয়ে তোলাতে হবে এবং সেগুলি ফিলাপ করে রোটারি করে সেটাও থানা থেকে ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। রোটারি করে সেগুলোকে জমা দেওয়াতে হবে।’
তৃণমূল নেতার আরও দাবী, ‘এই গোটাটাই হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়ার জন্য বিজেপির যে গেম প্ল্যান, শুভেন্দু অধিকারীর যে গেম প্ল্যান, সেই গেম প্ল্যান অনুযায়ী গদ্দার শিবিরকে ওদের তো কর্মী নেই ফিলাপ করতে পারছে না সেই কারণে পুলিশকে নামানো হয়েছে। একাধিক এসপি অফিস, ডিএম অফিস প্রশাসনিক দপ্তর গুলি, থানা সেখানে রীতিমতো কোন অফিসারকে কেন্দ্র করে কাজগুলি হবে এবং এর খরচা বোঝাই যাচ্ছে যে ভুতে জোগচ্ছে। তো সুতরাং বুঝে নিতে হবে কারা দিচ্ছে।’
আরও পড়ুনঃ এক বছরেই শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের গন্তব্য হবে বাংলা, বড় বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর
রাজ্য পুলিশের উদ্দেশ্য বিশেষ বার্তা দিয়ে কুণাল বাবু আরও বললেন, ‘এই মারাত্মক অভিযোগ আমাদের পুলিশ সূত্র থেকেও আসছে, রাজনৈতিক সূত্র থেকেও আসছে। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বলছি রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন যদিও আমরা জানি তারা বিজেপির হয়েই কাজ করছে কিন্তু অফিসারদের বলছি এই অভিযোগ যদি সত্যি হয়ে থাকে, ইতিমধ্যেই খবর এসেছে, একটি জায়গা থেকে পুলিশের একজন গুচ্ছ কোর্ট পেপার তুলেছেন এবং রোটারির এক অফিসারকে বলা হয়েছে আপনি স্ট্যাম্প মেরে দিন, ফিল আপ পরে হবে। অর্থাৎ ঘরে বসে ভোটার লিস্ট দেখে, সব ভুলভাল নাম ফিল আপ হয়ে সংখ্যা বাড়ানো হবে।’
কুণাল ঘোষের আরও অভিযোগ, ‘ এখন কথা হচ্ছে, যে ব্যক্তির নাম ফিল আপ হচ্ছে তিনি জানবেনও না তার নামে কোন এফিডেভিট ফিল আপ হয়ে গেল। তার কারণ গুচ্ছ জমা দেওয়ার পর প্রত্যেকটি ধরে ধরে জেনুইন কিনা এটা পরীক্ষা করারও সম্ভব হবে না। ফলে যেখানে আমাদের যারা কর্মী রয়েছেন তারা একেবারে পার্টি অফিস বা দপ্তর বা বাড়ি বা নিজেরা টিম করে সুন্দরভাবে একটা ফিল আপ করছেন এবং এফিডেভিট করা হচ্ছে।’
একইসঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবী, ‘সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং স্বীকৃতি ড্রপ করা বিজেপির গেম প্ল্যান। সেইটাকে সাকসেসফুল করতে গেলে গদ্দার শিবিরের, অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন যে দল আছে তাদের হাতে এই কাজটা করে দেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। আমরা পুলিশকে বলছি যে দয়া করে এই ধরনের কাজ করবেন না আপনারা কিন্তু আইনে জড়াচ্ছেন। আমাদের কর্মীদের আমরা জানাবো যে আপনারা যা অভিযোগ জানাচ্ছেন সেগুলো একদম প্রমাণ রাখুন, যদি কোন থানার পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আপনি নিশ্চিত খবর পাচ্ছেন তাহলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বকে জানান কারণ এই ধ্যানেশ কুমারের নেতৃত্বে যে কাণ্ডকারখানা, যে দলবাজি, কারচুপি, ভোটার তালিকা যা করে যাচ্ছে সেই ধ্যানেশ কে ব্যবহার করে এই দলের স্বীকৃতি কাড়ার জন্য এই কাজটা করা হচ্ছে হলফনামাটা পুরোদস্তুর জ্বাল হলফনামা, ভুয়ো হলফনামা এবং পুলিশকে নামিয়ে হলফনামা।’














