বাংলা হান্ট ডেস্ক : চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আটকাতে এবার কালীপুজোর আগে থেকেই কোমর বেঁধে নামল লালবাজার (Lalbazar)। চোরবাগানের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই শহরের কালীপুজো উদ্যোক্তাদের জন্য একাধিক কড়া নিয়ম বেঁধে দিল লালবাজার। মণ্ডপে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বিপদের সময় দ্রুত উদ্ধার—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এবার আগাম প্রস্তুতি বাধ্যতামূলক করছে পুলিশ।
কালীপুজোয় কড়া নিয়ম লালবাজারের (Lalbazar)
কলকাতার কালীপুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সোমবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে বৈঠকে বসেছিলেন পুলিশকর্তারা। সেখানেই উৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও মণ্ডপে ভিড় বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। শুধু স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না।

কোনও কারণে মণ্ডপ খালি করার প্রয়োজন হলে দর্শনার্থীদের কোন পথে এবং কীভাবে বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে, তার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি রাখতে হবে। এই ব্যবস্থাকেই বলা হচ্ছে ‘এমার্জেন্সি ইভাকুয়েশন প্ল্যান’। প্রয়োজন পড়লে সেই পরিকল্পনা পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। মণ্ডপের নকশা ও যাতায়াতের ব্যবস্থাতেও বিশেষ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য যতটা জায়গা রাখা হবে, বেরিয়ে যাওয়ার পথ তার তুলনায় দ্বিগুণ চওড়া করতে হবে।
আরও পড়ুন : আধুনিক অস্ত্র, উন্নত প্রশিক্ষণেই বদলাচ্ছে ছবি! ৪৭ বছরে এই প্রথম CRPF-এ শূন্য প্রাণহানি
হঠাৎ ভিড় বেড়ে গেলে যাতে মানুষ বেরনোর সময় একে অপরের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে না জড়ান, সেই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা। পাশাপাশি, মাইক ব্যবহার করে ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রেও পুজো কমিটিগুলিকে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে নিষেধ করেছে পুলিশ। দর্শনার্থীদের উদ্দেশে কোনও ঘোষণা করতে হলে আগে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশকর্মীদের উপস্থিতিতেই সেই ঘোষণা করতে হবে। চোরবাগানে ভুল বার্তার জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই এই সতর্কতা।
কালীপুজোয় বৃষ্টি নামলে মণ্ডপে নতুন করে দর্শনার্থীদের প্রবেশ করানো যাবে না। পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত প্রবেশ বন্ধ রাখতে হবে। ইতিমধ্যে যাঁরা ভিতরে রয়েছেন, তাঁদের নিরাপদে বের করে আনার ব্যবস্থাও উদ্যোক্তাদের করে রাখতে হবে। এ বছর কলকাতা শহরে মোট ৩৪৪২টি কালীপুজো অনুষ্ঠিত হবে। এতগুলি মণ্ডপে নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি বিসর্জনের ব্যবস্থাপনাও পুলিশের কাছে বড় দায়িত্ব।
আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে ফের নতুন করে শুরু হচ্ছে আবেদন, দারুণ সুযোগ করে দিচ্ছে সরকার
প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য ১০ থেকে ১২ নভেম্বর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শব্দবিধি ভাঙা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজরদারি চলবে। লালবাজারের নির্দেশ অনুযায়ী, রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি পোড়ানো যাবে। লাউডস্পিকার ও সাউন্ড বক্স চালানোর অনুমতি থাকছে সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় শব্দবাজি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। ডিজে বাজানোর ক্ষেত্রেও কোনও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।












