বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতীয় নারীদের আত্মবিশ্বাস ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক উজ্জ্বল সাফল্যের (Success Story) প্রতীক লীনা নায়ার। ছোট শহর থেকে বিশ্বব্যাপী বিলাসবহুল শিল্পের শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছনোর তাঁর যাত্রা প্রমাণ করে, দৃষ্টিভঙ্গি ও অধ্যবসায় থাকলে সীমা ভাঙা সম্ভব। ফরাসি বিলাসবহুল সংস্থা চ্যানেলের গ্লোবাল সিইও হিসেবে তিনি শুধু কর্পোরেট বোর্ডরুমেই নয়, বিশ্ব ব্যবসায়িক মঞ্চেও ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে তুলে ধরেছেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্যারিসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ছিল সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন—যেখানে ব্যক্তিগত সাফল্য ছাপিয়ে একটি দেশের নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাস ধরা পড়ে।
লীনা নায়ারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
১৯৬৯ সালের ১১ জুন মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে এক হিন্দু মালয়ালি পরিবারে জন্ম লীনা নায়ারের। শিক্ষার প্রতি অনুরাগী পরিবারে বড় হওয়ায় পড়াশোনাই ছিল তাঁর এগিয়ে যাওয়ার প্রধান হাতিয়ার। হলি ক্রস কনভেন্ট স্কুলের প্রথম মহিলা স্নাতক ব্যাচের সদস্য হিসেবে তিনি শুরু থেকেই নজির গড়েন। ইলেকট্রনিক্স ও টেলিযোগাযোগে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জনের পর XLRI থেকে এমবিএ করে স্বর্ণপদক লাভ করেন। পরিবারের প্রথম নারী হিসেবে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা লীনা তখনই নিজের পথে সাহসী পদক্ষেপ রাখেন।
আরও পড়ুন: ভারতেরই অংশ PoK! মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্প প্রশাসনের, ঘুম উড়ল পাকিস্তানের
পেশাগত জীবনের শুরু হিন্দুস্তান ইউনিলিভারে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্ন হিসেবে। ১৯৯২ সালে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে কারখানা, বিক্রয় অফিস ও কর্পোরেট সদর দপ্তরে কাজ করে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন। পুরুষ-প্রাধান্যযুক্ত কর্মপরিবেশে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষমতা ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় গভীর বোঝাপড়া তাঁকে দ্রুত আলাদা পরিচিতি দেয়। ২০০৭ সালে তিনি সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হন—সবচেয়ে কম বয়সী নেতাদের একজন এবং ব্যবস্থাপনা কমিটিতে যোগ দেওয়া প্রথম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
ইউনিলিভারের বিশ্বব্যাপী নেতৃত্বে লিঙ্গ-সমতা অর্জনে লীনা নায়ারের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালে তিনি ইউনিলিভারের প্রথম নারী, প্রথম এশীয় ও সর্বকনিষ্ঠ চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার হন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত নির্বাহী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে চ্যানেলের সিইও হিসেবে তাঁর নিয়োগ বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে—চ্যানেলের শতবর্ষের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় এবং দ্বিতীয় নারী প্রধান হিসেবে তিনি ব্র্যান্ড নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত ঘাম হওয়া অযোগ্যতার মাপকাঠি নয়, কনস্টেবল নিয়োগ মামলায় রায় হাইকোর্টের
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও তাঁর ঝুলিতে এসেছে। ব্রিটেনের মর্যাদাপূর্ণ কমান্ডার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (CBE) সম্মানসহ একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন তিনি; ফোর্বসের প্রভাবশালী নারীদের তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে লীনা নায়ার সাদাসিধে—স্বামী কুমার নায়ার ও দুই পুত্রকে নিয়ে তাঁর পরিবার। সাফল্যের আর্থিক প্রতিফলনও উল্লেখযোগ্য; বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর মোট সম্পদ আনুমানিক ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বলা হয়। তবে সংখ্যার বাইরে লীনা নায়ারের আসল পরিচয়—তিনি সেই সাহসের নাম, যা ভারতীয় নারীদের বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করে।













