অতিরিক্ত ঘাম হওয়া অযোগ্যতার মাপকাঠি নয়, কনস্টেবল নিয়োগ মামলায় রায় হাইকোর্টের

Published on:

Published on:

disqualification order by High Court Constable Recruitment case
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: অতিরিক্ত ঘাম দিয়ে হবে না যোগ্যতার বিচার। আর এর জন্য বাতিলও হবে না চাকরি, এমনটাই জানালো কলকাতা হাইকোর্ট কনস্টেবল পদে নিয়োগের মামলায় (High Court Constable Recruitment)। এক চাকরি প্রার্থী আশিক মন্ডল এর করা মামলায় হাইকোর্ট, এই রায় দিয়েছে।

কনস্টেবল নিয়োগে কী পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের(High Court Constable Recruitment)

অতিরিক্ত ঘামলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর চাকরিতে অযোগ্য বলে গণ্য হতে পারেন না কোনও প্রার্থী। সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস বা সিএফপিএফের কনস্টেবল পদে নিয়োগের মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। অতিরিক্ত ঘাম হওয়াকে বলে পামার হাইপারহাইড্রোসিস। কিন্তু এর জন্য চিকিৎসা নির্দেশিকায় কোন এমন নির্দিষ্ট বিধান নেই যার ভিত্তিতে প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা যায়।

আশিক মন্ডল নামে এক চাকরি প্রার্থী হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। তার দায়ের করা মামলায় হাইকোর্টের বক্তব্য রিক্রুটমেন্ট মেডিকেল এক্সামিনেশন গাইডলাইন্স ২০১৫ এর ধারা ৬(১৬) উপধারা অনুযায়ী এই ঘটনা, মানসিক বা স্নায়বিক অস্থিরতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

চাকরি বাতিলের ক্ষেত্রে এর ভুল প্রয়োগ করা হয়েছে বলে কলকাতা হাইকোর্ট মনে করছে। কারণ আবেদনকারীর শারীরিক অবস্থা, তার মানসিক বা স্নায়বিক অবস্থার সঙ্গে যুক্ত, এরকম কোন চূড়ান্ত প্রমাণ কেন্দ্রীয় সরকার দিতে পারেনি।

আরও পড়ুন:সুপ্রিম রায়ের পরও রাজ্য চাইলে বকেয়া DA না দিতে পারে? জানালেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম

এই মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট সিএফপিএফ কর্তৃপক্ষরকে নির্দেশ দিয়েছে প্রার্থীকে চিকিৎসাগত ভাবে উপযুক্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে এবং প্রার্থী যদি অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে থাকে, তাহলে দু মাসের মধ্যে তাকে কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

আরও পড়ুন:কলকাতা হাই কোর্টেও দুর্নীতি! টাকা দিয়ে মামলার তালিকা বদল? তদন্তের নির্দেশ খোদ বিচারপতির

Excessive sweating is not criterion for disqualification order by High Court Constable Recruitment caseহাইপারহাইড্রোসিস অতিরিক্ত স্নায়বিক অস্থিরতা বা মানসিক অস্থিরতার জন্য হতে পারে। এতে হাতের তালু অতিরিক্ত ঘেমে যেতে পারে, কিন্তু এটা শারীরিক কোন এমন অবস্থা কে নির্দেশ করে না, যা এই পরীক্ষার নির্বাচনী গাইডলাইন্সের বিপক্ষে। তাই আশিক মন্ডল এর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে করা এই মামলায় হাইকোর্টের রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এটা শুধু একজন চাকরিপ্রার্থী নয় আরও অনেক চাকরি প্রার্থীরই হতে পারে। যদি অন্য কারো এই সমস্যা থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে এই মামলার রায় তাদেরকেও স্বস্তি দেবে।