বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে (Pakistan Occupied Kashmir) মানচিত্রে ভারতের অংশ হিসেবেই দেখালেন ট্রাম্প। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ভারত ও আমেরিকার যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পরই কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল ওয়াশিংটনের একটি পদক্ষেপ। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে প্রকাশিত একটি সরকারি মানচিত্রে সমগ্র ভারতীয় ভূখণ্ডকে দেখানো হয়েছে, যেখানে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরকে স্পষ্ট ভাবে ভারতের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ওই মানচিত্রে পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা অংশ, অর্থাৎ পাক-অধিকৃত কাশ্মীর বা পিওকে-ও ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যেই দেখানো হয়েছে।
PoK (Pakistan Occupied Kashmir)-কে ভারতের অংশ হিসেবে মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্পের:
ভারতীয় কূটনৈতিক অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট—পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বিষয়ে নয়াদিল্লি বহুবার জানিয়েছে, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা কোনও তৃতীয় পক্ষের স্বীকৃতির উপর নির্ভরশীল নয়। তবে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকার প্রকাশিত মানচিত্রকে নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন কার্যত ভারতের দাবির সঙ্গে সহমতেরই ইঙ্গিত দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, যে আকসাই চিন অঞ্চলকে চিন নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, সেই এলাকাও ভারতের ভূখণ্ড হিসেবেই দেখানো হয়েছে ওই মানচিত্রে।
আরও পড়ুন: কলকাতা হাই কোর্টেও দুর্নীতি! টাকা দিয়ে মামলার তালিকা বদল? তদন্তের নির্দেশ খোদ বিচারপতির
কাশ্মীর প্রসঙ্গে মার্কিন অবস্থান অতীতেও একাধিকবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত বছর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনার পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাশ্মীর প্রসঙ্গে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও নয়াদিল্লি তখনও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কাশ্মীর সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয় এবং এতে কোনও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। ওই সময়েই ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে কিছুটা টানাপড়েন তৈরি হয় এবং ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করায় বাণিজ্য আলোচনা কার্যত থমকে যায়।
সাম্প্রতিক কালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি সংক্রান্ত আলোচনায় গতি ফেরায় সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রকাশিত এই মানচিত্র পাকিস্তানকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে বলে মত বিশ্লেষকদের। কারণ, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক যখন চাপে ছিল, সেই সময় পাকিস্তান ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ছায়া! নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের
কিন্তু আমেরিকার এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত সাফল্য আনতে পারেনি। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, মানচিত্র প্রকাশের মাধ্যমে আমেরিকা কার্যত ভারতের ভৌগোলিক অবস্থানকে স্বীকৃতি দিয়ে পাকিস্তানের দাবিকে দুর্বল করেছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে পাকিস্তান যে আরও কিছুটা চাপে পড়ল, তা বলাই যায়।













