বাংলাহান্ট ডেস্ক : দীর্ঘ দূরত্বের সফরের ক্ষেত্রে অনেক মানুষেরই প্রথম পছন্দ ট্রেন। সস্তায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য রেলের (Indian Railways) বিকল্প নেই। সিট রিজার্ভ করে নিলেই আরামে আড্ডা দিতে দিতে, বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে বা ঘুমাতে ঘুমাতে পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে। কিন্তু সিট রিজার্ভ করলেই কি অসুস্থ যাত্রী নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে ঘুমাতে পারবেন নিজের বার্থে?
রেলের (Indian Railways) নিয়ম নিয়ে কী রায় হাইকোর্টের?
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি রায় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাদ্রাজ হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি কেসে নিজের রায়ে ভারতীয় রেলের সার্কুলার বজায় রেখেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যাত্রীদের রাত ১০ টা থেকে ৬ টার মধ্যেই বার্থে ঘুমোনোর অধিকার রয়েছে। রেলের এই ম্যানুয়ালকে চ্যালেঞ্জ করে একটি আপিল করা হয়েছিল।

কী আবেদন করা হয়েছিল: ১১ ফেব্রুয়ারি চেন্নাই আদালতে সিঙ্গেল বেঞ্চে পাস হওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়। আবেদনকারী আদালতে উল্লেখ করেছিলেন, তিনি ট্রেনে নিয়মিত সফর করেন। একবার নিজের অসুস্থ স্ত্রীর সঙ্গে তিনি সফর করছিলেন। তখন সকাল ৬ টার পরে তাঁকে বার্থে ঘুমাতে দেওয়া হয়নি। প্রধান বিচারপতি সুষ্রু অরবিন্দ ধর্মধৈরী ও বিচারপতি জি আরুল মুরুগানের ডিভিশন বেঞ্চে এই আপিলের শুনানি হয়।
আরও পড়ুন : ‘রাজ্যের সনাতনীরা রিজেক্ট করেছে..’ হুমায়ুনকে সতর্ক করলেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ
কী উল্লেখ আদালতের: ডিভিশন বেঞ্চ উল্লেখ করেছে, সার্কুলারটি রোগী, গর্ভবতী মহিলা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য শিথিল করা হয়েছে। অভিযোগকারীর কোনও অসুবিধা হলে ট্রেনের কর্মীরা (Indian Railways), আরপিএফ বা পরবর্তী স্টেশন কর্মীরা ট্রেনের কর্মীদের অবহিত করতে পারেন। উল্লেখ্য, আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, রেল ম্যানুয়ালে গর্ভবতী নারী, অসুস্থ যাত্রীদের জন্য রয়েছে বিশেষ বিধান। তবে সহযাত্রীদের অনুমতি ছাড়া এই সুবিধগুলি গ্রহণ করায় সমস্যা হতে পারে। এরপরেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
আরও পড়ুন : ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া বহনের ক্ষমতা নেই, উৎসাহ ভাতা এখন না দেওয়ার কারণ জানালেন শুভেন্দু
আদালতের রায়ে রেলের নিয়মটিই বহাল রেখে আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, বার্থ ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত সময়সীমাগুলি যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ঠিক করা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি ঘটনার ভিত্তিতে এই নিয়ম বাতিল করা যায় না। তবে আদালত আরও জানিয়েছে, অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে বিশেষ ব্যবস্থার সুযোগ রাখা যেতে পারে।












