বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের মুখে ফের চড়ল রাজনৈতিক উত্তাপ। ঝাড়গ্রামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আবারও বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুললেন। ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতা টেনে এনে তিনি দাবি করলেন, এবারও একইভাবে পরিকল্পিতভাবে ভোট ও গণনায় গড়মিল করার চেষ্টা হতে পারে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং আর্থিক প্রতারণা নিয়েও কড়া বার্তা দিলেন তিনি।
ভোট কারচুপি অভিযোগ মমতার (Mamata Banerjee)
ঝাড়গ্রামের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, ভোটের দিন যেমন ধীরগতিতে ভোট করানো হতে পারে, তেমনই গণনার দিনেও ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতিতে কাউন্টিং করা হতে পারে। তাঁর দাবি, প্রথমে বিজেপির এগিয়ে থাকার ছবি দেখানো হবে, আর তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটির ফলাফল দেরিতে সামনে আনা হবে। এতে করে রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি টেনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিন তিনি (Mamata Banerjee) আরও অভিযোগ করেন, গণনার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো হতে পারে, যাতে তারা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এই পুরো বিষয়টিকেই তিনি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বলে দাবি করেন।
ভোটার তালিকা প্রসঙ্গেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর মাধ্যমে প্রায় ৯০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ভোটের ঠিক আগে কেন এই কাজ করা হল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে বলেন, যাদের ভোটে জিতে এসেছেন, সেই মানুষদের নামই যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে তাঁদের পদত্যাগ করা উচিত।
এছাড়াও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ যদি তাঁর নাম করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য চায় বা নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার প্রলোভন দেয়, তাহলে যেন কেউই সেই ফাঁদে না পড়েন। তাঁর দাবি, এই ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে দাপুটে নেতা, ভোটের আগে মেদিনীপুরে বদলে গেল বড় সমীকরণ
এদিকে নির্বাচনের লড়াই ঘিরে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম কেন্দ্রও আলোচনায়। শুভেন্দু অধিকারী দুটি কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হচ্ছেন। নন্দীগ্রামে তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র কর। একসময় শুভেন্দুর সঙ্গেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন পবিত্র, তবে ভোটের আগে তিনি ফের তৃণমূলে ফিরে এসে টিকিট পান। তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে দলের অন্দরে কিছুটা অসন্তোষও দেখা গিয়েছিল।












