বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নিউটাউনে প্রস্তাবিত ‘দুর্গা অঙ্গন’ প্রকল্পের শিলান্যাসকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিলান্যাস অনুষ্ঠানে একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানের কথা বলেছেন, অন্যদিকে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এই প্রকল্পকে ঘিরে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। শিলান্যাসের দিনেই তাই দুর্গা অঙ্গনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সামনে এসেছে।
দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস হতেই মুখ্যমন্ত্রীকে (Mamata Banerjee) আক্রমণ করেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, হিন্দু ভোট তুষ্ট করতে দুর্গা মন্দির তৈরি করা হচ্ছে। আবার মুসলিম ভোট পাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হুমায়ুন কবিরকে দিয়ে বাবরি মসজিদ তৈরির কথা বলা হচ্ছে। দিলীপ ঘোষের আরও দাবি, দুর্গা অঙ্গন প্রকল্প নিয়ে একাধিক বিতর্ক রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ এবং জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া নিয়ে মামলাও হয়েছে বলে তিনি জানান।
শিলান্যাস মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে কটাক্ষ মমতার (Mamata Banerjee)
অন্যদিকে শিলান্যাস অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই বিজেপিকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গঙ্গাসাগর মেলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কুম্ভমেলায় যাওয়ার জন্য রেল, বাস ও বিমানের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু গঙ্গাসাগরে যেতে এখনও নদী পার হতে হয়, যা খুব কষ্টসাধ্য। তবুও সেখানে এক কোটির বেশি পুণ্যার্থী যান।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ১২ বছর ধরে তিনি কেন্দ্রের কাছে গঙ্গাসাগর সেতু তৈরির দাবি জানিয়ে আসছেন। শুভ দিনে কেন্দ্রকে দোষ দিতে না চাইলেও তিনি বলেন, নানা সমস্যার মধ্যেই সেতুর জন্য অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু হবে এবং দু’বছরের মধ্যে সেতু তৈরি হয়ে যাবে। তখন আর কাউকে জল পেরিয়ে গঙ্গাসাগরে যেতে হবে না।
অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আরও বলেন, কেউ যদি ধর্মীয় সাহায্যের জন্য তাঁর কাছে আসে, তিনি সব ধর্মের মানুষের পাশেই দাঁড়ান, সেটা হিন্দু, মুসলিম, জৈন, খ্রিস্টান বা পারসি যেই হোক না কেন। অনেকেই এটাকে তুষ্টিকরণ বলেন, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি তুষ্টিকরণ করেন না, তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার পথেই চলেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ২০২১ সালে দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ‘অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই সারা বছর দুর্গা উৎসবের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, নকশা প্রস্তুত এবং আজ থেকেই কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, “ধর্ম ব্যক্তিগত, কিন্তু উৎসব সবার জন্য।”
প্রায় ২ লক্ষ বর্গফুট এলাকাজুড়ে গড়ে উঠবে দুর্গা অঙ্গন। এখানে একসঙ্গে প্রায় ১,০০০ মানুষ থাকতে পারবেন। মূল গর্ভগৃহের উচ্চতা হবে ৫৪ মিটার। সেখানে ১০৮টি দেবদেবীর মূর্তি এবং ৬৪টি সিংহমূর্তি থাকবে। পুরো কমপ্লেক্সের চারদিকে থাকবে ২০ ফুট চওড়া হাঁটার পথ।

আরও পড়ুনঃ শুধু মন্দির নয়, এক অনন্য স্থাপত্য, ২৬১ কোটির ‘দুর্গাঙ্গন’এ কী কী চমক থাকছে জানেন?
মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানান, দুর্গা অঙ্গন প্রকল্প রাজ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। এটি বছরে ৩৬৫ দিন খোলা থাকবে। প্রথমে ১২ একর জমিতে প্রকল্পের পরিকল্পনা থাকলেও পরে তার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। মমতার দাবি, এটি বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গা অঙ্গন হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে, মানুষের আয় বাড়বে এবং রাজ্যের সংস্কৃতি ও অর্থনীতি, দু’দিকেই লাভ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।












