বাংলা হান্ট ডেস্ক : জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রভাব আপাতত তৃণমূলের দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পড়ছে না। তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহার করতে পারবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশে বহাল রইল আগের ব্যবস্থাই। ফলে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহারে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি হল না।
তহবিল নিয়ে স্বস্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)
ইচ্ছেমতো ওই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা যাবে না। আদালত যে পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে, সেই নিয়ম মেনেই আর্থিক লেনদেন করতে হবে। মমতা তৃণমূলের অনুমোদিত প্রতিনিধিদের মধ্যে যে কোনও দুজন চেকে সই করতে পারবেন। তার সঙ্গে প্রয়োজন হবে বিশেষ আধিকারিকের স্বাক্ষর। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক টাকা দেওয়ার অনুমতি পাবে। আদালতের বর্তমান নির্দেশ আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
মামলার শুনানিতে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, নির্বাচন কমিশনের প্রতীক সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের সঙ্গে দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের কোনও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, কমিশন এখনও তৃণমূলের নাম বা প্রতীকের মালিকানা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। শুধুমাত্র উপনির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীক সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাই সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পুরনো আদালতের নির্দেশ বাতিল করার প্রয়োজন নেই।
মমতা শিবিরের হয়ে আদালতে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী সোহেব আলম। তাঁর বক্তব্য ছিল, নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতীক নিয়ে বিবাদ এখনও বিচারাধীন। দুই পক্ষকেই আলাদা প্রতীক দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিষয়টিকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, “কমিশন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য দায়বদ্ধ। প্রতীক কে পাবে সেটি নির্বাচন কমিশনের কাছে বিচারাধীন। নতুন প্রতীক পেয়েছে দুই দলই। কমিশন প্রতীক না দিলেও অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে সমস্যা হবে না।”
এর পরেই প্রশাসনের অবস্থান জানতে চান বিচারপতি। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, “তদন্ত চলছে। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে অনেক টাকা আছে। একটিতে ২৫ কোটি টাকার বেশি আছে। মামলা খারিজ করা হোক। কারণ কমিশন প্রতীক কেড়ে নিয়েছে। তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বিশেষ অফিসার মারফত ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেটা বাতিল করা হোক। ওই অ্যাকাউন্টে যাঁরা সই করতেন, কমিশনের নির্দেশের পর তাঁদের সই করার অধিকার নেই।”
রাজ্যের এই দাবির সঙ্গে অবশ্য সহমত হয়নি আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেন, কমিশনের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পুরনো অনুমতি বাতিল হয়ে যায়নি। তাঁর বক্তব্য, “শুধুমাত্র উপনির্বাচনের জন্য প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে। এই নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি কমিশনের তরফে। তাই সেক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে কোনও বাধা নেই।”

আরও পড়ুন : ১লা নভেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে নিয়ম! ফ্রি ট্রেন যাত্রার বড় সুবিধা দেওয়া হবে ‘এই’ সমস্ত লোকেদের
এই অ্যাকাউন্ট নিয়ে আইনি টানাপোড়েন অবশ্য বেশ কিছুদিনের। তৃণমূলের এক বিধায়কের অভিযোগের পর তিনটি দলীয় অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। সেই অর্থ যাতে দলীয় কাজে ব্যবহার করা যায়, সেই অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল।














