বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান। প্রবীণ নেতা মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে রাজনৈতিক মহলে। দীর্ঘদিনের সহকর্মীকে হারিয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
মমতার (Mamata Banerjee) সহযোদ্ধা ছিলেন মুকুল রায়
মুকুল রায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বহু বছরের রাজনৈতিক সঙ্গী। কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন দল তৃণমূল কংগ্রেস গড়ার সিদ্ধান্ত নেন, সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন মুকুল রায়। দল গঠনের শুরু থেকে সংগঠন তৈরি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়েও মমতার অন্যতম ভরসার জায়গা ছিলেন মুকুল। দলের ভিত মজবুত করতে এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সংগঠন ছড়িয়ে দিতে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। পরে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হন। দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল বলেই জানানো হয়েছে।
এক সময় তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং প্রায় তিন বছর সেখানে থাকেন। পরে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “মুকুলের মতো বিরোধ কারও সঙ্গে ছিল না।” সোমবার তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই এক্স-এ শোকবার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। তিনি লেখেন, “প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে।”
তিনি আরও জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা-লগ্ন থেকে মুকুল রায় দলের জন্য কাজ করেছেন। পরে ভিন্ন পথে গেলেও আবার ফিরে আসেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও অবদান ভোলার নয় বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক মহল তাঁর অভাব অনুভব করবে বলে জানান তিনি। পরিবারের সদস্য ও অনুরাগীদের প্রতিও সমবেদনা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ কেন দূরত্ব বাড়ল মমতা-মুকুল সম্পর্কে? কোন বিতর্কে শুরু ভাঙন?
মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের উদ্দেশ্যেও মমতা (Mamata Banerjee) লেখেন, “মন শক্ত করো। এই সঙ্কটে আমরা তোমার সঙ্গে আছি।” দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা মোড় এলেও শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের জায়গা অটুট ছিল—শোকবার্তায় সেই কথাই উঠে এসেছে।













