বাংলাহান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাওয়া যেমন কঠিন হয়ে উঠেছে, তেমনই কম বেতনের চাকরিতে আটকে পড়াও বহু তরুণ-তরুণীর বাস্তব অভিজ্ঞতা। এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে অনিশ্চিত পথে সাফল্য (Success Story) পাওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। তবে বেঙ্গালুরুতে এমনই এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় এসেছেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মীনাল গোয়েল। বছরে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি ছেড়ে তিনি নিজের ব্যবসা শুরু করেছেন, আর সেই যাত্রার গল্পই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
মীনালের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
বেঙ্গালুরু নিবাসী মীনাল গোয়েল কেপিএমজি ও ডেলয়েটের মতো নামী সংস্থায় কাজ করেছেন। ছয় বছরের কর্পোরেট অভিজ্ঞতা, স্থায়ী উচ্চ বেতন ও আরামদায়ক জীবন থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র মাসের শেষে বেতনের অপেক্ষায় থাকতে তিনি রাজি ছিলেন না। নিজের কিছু করার তাগিদ থেকেই পরিবার, বন্ধু এবং সমাজের প্রচলিত প্রত্যাশাকে অতিক্রম করে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তিনি চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং উদ্যোক্তা হওয়ার পথে হাঁটেন।
আরও পড়ুন:উত্তাল ইরান, অবিলম্বে দেশ ছাড়তে ভারতীয়দের নির্দেশ দূতাবাসের
তবে শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। মীনাল নিজেই জানিয়েছেন, ব্যবসা শুরুর প্রথম ছয় মাস ছিল অত্যন্ত কঠিন। তার সঞ্চয় যেখানে ছিল প্রায় ১২ লক্ষ টাকা, তা দ্রুত কমে দাঁড়ায় ৪ লক্ষ টাকায়। টানা কয়েকদিন কোনও আয় না থাকায় মানসিক চাপে ভুগতে হয়েছে তাঁকে। অনেক রাত নির্ঘুম কেটেছে এই ভেবে যে, কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে নেওয়া সিদ্ধান্তটি আদৌ ঠিক ছিল কি না।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে। Unacademy-এর সঙ্গে ২৫ হাজার টাকার একটি ছোট ফ্রিল্যান্স প্রকল্প পান তিনি। অর্থের অঙ্ক ছোট হলেও এই সুযোগটাই তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। মীনালের কথায়, সেই সময় কেউ তাঁর উপর বিশ্বাস রেখেছে—এই অনুভূতিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ওই প্রকল্পের পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ধীরে ধীরে কাজ বাড়তে থাকে এবং আজ তাঁর নিজের কোম্পানিতে পাঁচজনের একটি দল প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা আয় করছে।

আরও পড়ুন:নামমাত্র উপকরণেই সারা সন্ধ্যের জলখাবার, বাড়িতেই ভেজে ফেলুন চিংড়ির মুচমুচে চপ
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মীনাল শিখেছেন, ব্যবসা শুরু করার জন্য নিখুঁত প্রস্তুতি বা বিপুল সঞ্চয়ের অপেক্ষা জরুরি নয়। সাহস ও দৃঢ়তা থাকলে অনিশ্চয়তার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। কর্পোরেট দুনিয়ার অনেক সহকর্মী যেখানে এখনও পদোন্নতির দৌড়ে ব্যস্ত, সেখানে মীনাল সম্পূর্ণ নিজের মালিকানাধীন একটি সংস্থা গড়ে তুলেছেন। তাঁর এই যাত্রা বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে এবং নিরাপদ গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে স্বপ্নের পথে হাঁটার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।












