Durga Puja 2026 Live Updates

যন্তর মন্তরে আর করা যাবে না প্রতিবাদ কর্মসূচি! নির্দেশিকা দিল্লি পুলিশের, হুঙ্কার দিলেন অভিজিত দিপকে

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: দিল্লির (Delhi) যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) আর প্রতিবাদ কর্মসূচি করা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Ministry of Home Affairs) অধীন দিল্লি পুলিশের নতুন নির্দেশিকায় এমনটাই জানানো হয়েছে। এত দিন রাজধানীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে বিক্ষোভের অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র ছিল যন্তর মন্তর। এ বার তার পরিবর্তে প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য তিনটি জায়গা নির্দিষ্ট করেছে পুলিশ— পুরনো দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি মাঠ। দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের প্রকাশিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই তিন জায়গায় কীভাবে প্রতিবাদের অনুমতি মিলবে এবং কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম মানতে হবে, তা জানিয়ে শীঘ্রই একটি পৃথক স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) প্রকাশ করা হবে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এবার থেকে যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) যে কোনরকম প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা জারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

দিল্লি পুলিশের তরফে ১১ অক্টোবর, রবিবার নির্দেশিকাটি প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সোমবার। নতুন নির্দেশিকায় নির্ধারিত তিনটি মাঠ যন্তর মন্তর (Jantar Mantar) থেকে বেশ কিছুটা দূরে অবস্থিত। রামলীলা ময়দানের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার, সিবিডি মাঠের প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এবং বুরারি মাঠের দূরত্ব প্রায় ৪৪ কিলোমিটার। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশ একটি নির্দেশিকা জারি করে যন্তর মন্তরকেই প্রতিবাদস্থল হিসেবে নির্দিষ্ট করেছিল। সেই ব্যবস্থায় এ বার বদল আনা হল। যন্তর মন্তরের আশপাশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর রয়েছে। সেই এলাকায় বিক্ষোভ ও জমায়েত নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও পুলিশের নির্দেশিকায় সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে কমিটির সুপারিশের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে জনপ্রিয়! রাসায়নিক প্রসাধনীর ভিড়ে আয়ুর্বেদেই হল বাজিমাত, কীভাবে সফল Vicco?

এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার সময়েই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করার অনুমতি চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ দলের তিন শীর্ষ নেতা-নেত্রী দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অনুমতি চেয়েছেন তাঁরা। এর আগে শনিবার যন্তর মন্তরে একই দাবিতে প্রতিবাদের আয়োজন করেছিল দলটি। তবে পুলিশের দাবি, আগে থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে সেই কর্মসূচির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ওই দিন ধরপাকড়ের ঘটনাও ঘটে এবং দলের নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়। সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আগেই জানিয়েছিলেন, পুলিশ অনুমতি না দিলে ফের প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হতে পারে। ফলে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসার পর দলের সঙ্গে পুলিশের টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের জায়গা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিজেপি প্রধান অভিজীত দিপক। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, যন্তর মন্তরকে আর প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জায়গাটি প্রতিবাদের বদলে কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। সেই মন্তব্যের পরেই তাঁর হুঁশিয়ারি, “এ বার পুরো দেশই যন্তর মন্তর হবে।” এর আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নিট-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি করেছিল সিজেপি। সেই ঘটনার পর আবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয় তারা। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সঙ্গে ওই আন্দোলনের সরাসরি সম্পর্ক বা তার ফলাফল সম্পর্কে কোনও স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য এখানে দেওয়া হয়নি।

The MHA has banned all forms of protest demonstrations at Jantar Mantar, effective immediately

আরও পড়ুন: নবরাত্রি শুরু হতেই অনলাইন শপিংয়ে উঠছে ঝড়! ৪৮ ঘণ্টায় বিক্রি ২৪,০০০ কোটি টাকার পণ্য

এদিকে, নতুন নির্দেশিকা জারির পরেও যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। দলের তরফে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়েছে, এই মর্মে পুলিশের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সই করেছেন দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। কবে কর্মসূচি করা যেতে পারে, তা পুলিশকে নির্ধারণ করে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে দলের দাবি। ফলে এখন নজর পুলিশের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি আদৌ দেওয়া হবে কি না, নাকি বিক্ষোভকারীদের নির্ধারিত তিনটি মাঠের কোনও একটিতে যেতে হবে, তা স্পষ্ট হবে পরবর্তী নির্দেশিকায়। তবে দিপকের ‘গোটা দেশই যন্তর মন্তর হবে’ মন্তব্যে পরিষ্কার, এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর এখনই থামার সম্ভাবনা কম।