বাংলাহান্ট ডেস্ক : মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty) বনাম তনয় শাস্ত্রী মামলা বর্তমানে ‘টক অফ দ্য টাউন’। বনগাঁর একটি সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিবাদ যেভাবে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে তা কার্যত নজিরবিহীন। প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে পালটা আইনি জবাব দিচ্ছেন তনয় শাস্ত্রী। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কে ঠিক আর কেই বা ভুল? প্রশ্ন উঠছে, মঞ্চে কী এমন অশালীন আচরণ করেছিলেন তনয় শাস্ত্রী, যে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেন মিমি?
কিন্তু কোন ঘটনাকে (Mimi Chakraborty) কেন্দ্র করে এত বড় গণ্ডগোল? সেটাই আগে জানা যাক
গত মাসের শেষে বনগাঁর এক সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই যাবতীয় বিতর্ক, আইনি লড়াইয়ের সূচনা। সেদিনের অনুষ্ঠানে শেষ অতিথি হিসেবে নাম ছিল মিমির। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ছিলেন তনয় শাস্ত্রী। অভিযোগ, নির্ধারিত সময় নিয়ে হয় বিভ্রান্তি। তনয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তি মতো নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকার কথা ছিল মিমির (Mimi Chakraborty)। কিন্তু তিনি দেরিতে এসে পৌঁছান। ফলত তিনি মঞ্চে ওঠার পরপরই সময়সীমা পেরিয়ে যায়। প্রশাসনিক বিধিনিষেধ মেনেই অনুষ্ঠান শেষ করতে বাধ্য হন তাঁরা।

অভিযোগ পালটা অভিযোগ: এদিকে মিমির অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এমনকি তনয়ের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ করারও অভিযোগ আনেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। তনয়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অভিনেত্রী। তদন্ত শুরু হলে গ্রেফতার হন তনয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয় হেনস্থা, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং ধস্তাধস্তির অভিযোগ। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয় তনয়ের বিরুদ্ধে। ফলত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সংশোধনাগারে থাকার পর শেষমেষ জামিন পান তিনি।
আরও পড়ুন : ৩৭ থেকে মাত্র দুটি রুটে এসে ঠেকেছে, ১৫৩ তম জন্মদিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ট্রাম ঘুরছে কলকাতায়
বিতর্ক গড়াল আইনি লড়াইয়ে: কিন্তু এই ঘটনার পরেই শুরু হল পালাবদল। জানা যায়, মিমির (Mimi Chakraborty) তরফে তনয়কে ২ কোটি টাকার মানহানির আইনি নোটিশ পাঠানো হলে জবাবে তনয়ের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয় আইনি পদক্ষেপ। তনয়ের আইনজীবী জানান, মিমির পাঠানো নোটিশের জবাব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০ লক্ষ টাকার মানহানির মামলাও করা হয়েছে। তনয়ের দাবি অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের জন্য ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন। তা ফেরত চেয়েছেন তিনি। তনয় স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইনি পথেই পুরো বিষয়টির নিষ্পত্তি চান তিনি।
আরও পড়ুন : ‘এক্সট্রা কারিকুলার’ নয়, মূল পাঠক্রমে জুড়ছে নাচ-গান, হবে বার্ষিক মূল্যায়ন, সিদ্ধান্ত শিক্ষা দফতরের
বিশ্লেষকরা বলছেন, সময়সীমা এবং চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা থেকেই বিরোধের সূত্রপাত। পরবর্তীতে তা ব্যক্তিগত এবং আইনি লড়াইয়ে মোড় নেয়। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, শিল্পী এবং আয়োজকদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতিই কি এহেন পরিস্থিতির কারণ নাকি পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলল জটিলতা? বর্তমানে অবশ্য বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে আদালতই।












