বাংলা হান্ট ডেস্ক : কালীপুজো আর হাতে গোনা কদিন বাকি। রাজ্যে পালা বদলের পর থানায় থানায় হতে চলেছে কালীপুজো। রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের (Jagannath Chattopadhyay) একটি মন্তব্যকে ঘিরে উঠছে প্রশ্ন। মন্ত্রীর কথায়, কালীপুজো শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে। সেই সংস্কৃতির প্রতিফলন পুলিশের কাজের পরিসরেও থাকা উচিত। তাই রাজ্যের প্রতিটি থানায় কালীমূর্তি স্থাপন এবং ঘটা করে পুজোর আয়োজন করার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।
ঠিক কী বলেছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী (Jagannath Chattopadhyay)?
বীরভূমের সিউড়িতে পুলিশের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মন্ত্রী। সেখানেই নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘পুলিস সংস্কৃতির অঙ্গ কালীপুজো। প্রত্যেক থানায় কালীমূর্তি থাকা প্রয়োজন’। স্কুলে সরস্বতী পুজোর প্রচলনের সঙ্গে তুলনা টেনে থানাতেও কালীপুজো আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর চেষ্টা করেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক থানায় সাড়ম্বরে কালীপুজো হোক। রঘু ডাকাতও কিন্তু ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে মা কালীর পুজো করে যেতেন। বাঙালির সংস্কৃতিতে যেমন স্কুলে সরস্বতী পুজো রয়েছে,…পুলিস সংস্কৃতির অঙ্গ কালীপুজো করানো। এটার মধ্যে ধর্মাচার নেই’।
রাজ্যের থানাগুলিতে সাধারণভাবে পুজো করার রীতি খুব একটা দেখা যায় না। যদিও পুলিশ আবাসনগুলিতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে থানার ভিতরেই কালীমূর্তি রাখার প্রস্তাব নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। মন্ত্রীর বক্তব্যে শুধু পুজোর আয়োজন নয়, পুলিশি কাজের সঙ্গে এই সাংস্কৃতিক পরম্পরাকে যুক্ত করার ভাবনাও উঠে এসেছে।
কেন থানায় কালীমূর্তি থাকা প্রয়োজন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একটি উদাহরণও দেন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘থানায় কালীমূর্তি থাকা দরকার। চোর যখন থানায় ঢুকবে, তখন মনে মনে বলবে মা যেন ছাড়া পাই। আর পুলিশ যখন বেরোবে, তখন প্রার্থনা করবে, আসামি যেন ধরা পড়ে’। তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে থানায় পুজোর আয়োজনকে ঘিরে নিজের যুক্তি তুলে ধরেছেন তিনি।

আরও পড়ুন : দীপাবলির আগেই লক্ষ্মীলাভ, প্রকাশিত পিএম কিষান যোজনার টাকা, এভাবে দেখুন স্ট্যাটাস
উল্লেখ্য, কালীপুজো উপলক্ষে বাজি পোড়ানো নিয়ে প্রশাসনের তরফে একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেবল পরিবেশবান্ধব গ্রিন ক্র্যাকার্স ব্যবহারের অনুমতি মিলবে। শব্দবাজির সর্বোচ্চ শব্দসীমা ১২৫ ডেসিবেল এবং অন্যান্য বাজির ক্ষেত্রে তা ৯০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্তই বাজি পোড়ানো যাবে বলে জানানো হয়েছে। তবে মন্ত্রীর বক্তব্যের পর রাজ্যের প্রতিটি থানায় কালীমূর্তি স্থাপন বা পুজোর আয়োজন নিয়ে কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।












