বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারত এখন শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদক হওয়ার দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এই আবহেই, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের সানন্দ GIDC-তে কেইন্স সেমিকন দ্বারা নির্মিত ৩,৩০০ কোটি টাকার একটি সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টের (Semiconductor Plant) উদ্বোধন করেছেন। এই প্ল্যান্টটি ভারতের চিপ উৎপাদন অভিযানের একটি প্রধান মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমান প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হল।
৩,৩০০ কোটি টাকার সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টের (Semiconductor Plant) উদ্বোধন করলেন মোদী:
বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে: জানিয়ে রাখি যে, এই কারখানাটি একটি OSAT (আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্ট) ইউনিট। যেখানে চিপ তৈরি করা হয় না, বরং সেগুলিকে অ্যাসেম্বল, প্যাকেজ এবং পরীক্ষা করা হয়। সহজ কথায়, এখানেই ছোট ছোট চিপ অ্যাসেম্বল করে আরও বড় ও কার্যকরী পণ্য তৈরি করা হয়। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এখন সেখানে বাণিজ্যিক উৎপাদনও শুরু হয়ে গেছে। এই প্ল্যান্টটিতে প্রথমে IPMs (ইন্টেলিজেন্ট পাওয়ার মডিউল) উৎপাদন করা হচ্ছে। যা বর্তমান বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই মডিউলগুলি মূলত বৈদ্যুতিক যানবাহন থেকে শুরু করে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল যন্ত্রপাতি এবং এনার্জি-এফিশিয়েন্ট ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়। যার অর্থ হল ভবিষ্যতে এগুলো ইভি সেক্টর এবং স্মার্ট ডিভাইস শিল্পকে ব্যাপকভাবে উপকৃত করবে।

বহু পণ্যের রফতানি: ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, এই প্ল্যান্টটি বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর সাপ্লাই চেনে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া, মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এখানে উৎপাদিত একাধিক পণ্য রফতানিও করা হবে। অর্থাৎ ভারত এখন বিশ্বকে চিপ সরবরাহ করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: হয়ে যান সতর্ক! ভারতে আর বিক্রি করা যাবে না এই কোম্পানিগুলির CCTV? কী জানাল কেন্দ্র?
দেশের দ্বিতীয় সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট: আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্ল্যান্টটি ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন’-এর অধীনে গড়ে তোলা হয়েছিল এবং এটি দেশের দ্বিতীয় চালু সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট। এর আগে মাইক্রন টেকনোলজিও ভারতে তাদের কারখানা চালু করেছে। এই প্ল্যান্টটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে, এটি দৈনিক প্রায় ৬৩ লক্ষ ইউনিট উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন: সমুদ্রেও ভারতের দাপট! শত্রুদের যোগ্য জবাব দেবে ‘সাইলেন্ট কিলার’ তক্ষক, চমকে দেবে ক্ষমতা
এর ফলে শুধু যে, আমদানির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে তাই নয়, বরং দেশে কর্মসংস্থান ও ইন্ডাস্ট্রি গ্রোথও ব্যাপক গতি পাবে। অর্থাৎ, এটি শুধু একটি কারখানা নয়, বরং ভারতকে টেকনোলজি সুপারপাওয়ার হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হবে। এই ধরণের প্রকল্পগুলি আগামী বছরগুলিতে ভারতকে একটি গ্লোবাল চিপ হাব-এও পরিণত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।












