বাংলাহান্ট ডেস্ক: এক পাড়ে অসমের (Assam) গুয়াহাটি, অন্য পাড়ে উত্তর গুয়াহাটি—মাঝখানে বিস্তীর্ণ ব্রহ্মপুত্র। সেই নদীর বুক চিরে তৈরি হল ১.২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কুমার ভাস্কর বর্মা সেতু। শনিবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে অসমবাসীর হাতে এই সেতু তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এতদিন যেখানে দুই প্রান্তের মধ্যে যাতায়াতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ৫ থেকে ৬ মিনিটেই পথ পেরোনো সম্ভব হবে।
নির্বাচনের আগে অসমকে (Assam) বড় উপহার মোদির
প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছয় লেনের এই সেতু উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম এক্সট্রা ডোজ়ড বা হাইব্রিড কম্বিনেশন ব্রিজ। আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এই কাঠামোতে বিশেষ কেবল-সমর্থিত নকশা প্রয়োগ করা হয়েছে, যা ভারবহন ক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। দ্রুত বাড়তে থাকা যানবাহনের চাপ সামাল দিতেই এই অত্যাধুনিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে ফিরলেন ক্ষমতাচ্যুত রাজা! ভারতের এই পড়শি দেশে উঠল রাজতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের দাবি
গুয়াহাটি ভূমিকম্পপ্রবণ সিসমিক জোন-৫ এলাকায় অবস্থিত। ফলে নকশা তৈরির সময় নদীর প্রবল স্রোত ও সম্ভাব্য ভূমিকম্প—দু’টিকেই মাথায় রাখা হয়েছে। সেতুতে ব্যবহার করা হয়েছে পেন্ডুলাম বিয়ারিংসহ একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা ভূমিকম্পের ধাক্কা শোষণ করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি সেতুর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে।
এছাড়া সেতুতে রয়েছে অত্যাধুনিক ‘ব্রিজ হেলথ মনিটরিং সিস্টেম’। এই ব্যবস্থা সেতুর ভারবহন ক্ষমতা, কম্পন ও স্থিতিশীলতা নিরন্তর পর্যবেক্ষণ করবে। কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। ফলে রক্ষণাবেক্ষণ আরও কার্যকর হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে। প্রশাসনের আশা, এই সেতু গুয়াহাটি ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ, বাণিজ্য ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

আরও পড়ুন: ড্রোনের জন্য আলাদা রানওয়ে! ভারতের এই রাজ্যে তৈরি হচ্ছে আধুনিক সামরিক ঘাঁটি
কামরূপের বর্মন রাজবংশের শেষ দিকের শাসক কুমার ভাস্কর বর্মার নামেই সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে। সপ্তম শতকের এই রাজা ছিলেন সম্রাট হর্ষবর্ধনের সমকালীন এবং অসমের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর নামাঙ্কিত এই সেতু শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং রাজ্যের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।












