বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের নবগঠিত মন্ত্রীসভায় জায়গা পাওয়া নতুন মুখদের মধ্যে অন্যতম গার্গী দাস ঘোষ (Gargi Das Ghosh)। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হলেও মায়ের পথ অনুসরণ না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন তিনি। প্রথমবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই বিধায়ক হওয়া এবং তারপরই মন্ত্রীত্ব পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে গার্গী (Gargi Das Ghosh)
গার্গীর মা প্রয়াত ছায়া ঘোষ দীর্ঘদিন মুর্শিদাবাদের বিধায়ক ছিলেন। ফরোয়ার্ড ব্লকের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি চারবার বিধানসভায় নির্বাচিত হন। শুধু তাই নয়, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীসভায় ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কৃষি বিপণন দফতরের দায়িত্বে ছিলেন ছায়া ঘোষ।
তবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মায়ের থেকে আলাদা পথ বেছে নেন গার্গী দাস ঘোষ। বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কান্দি কেন্দ্র থেকে পদ্ম শিবিরের হয়ে লড়েন তিনি। প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই জয় ছিনিয়ে নিয়ে সরাসরি রাজ্যের মন্ত্রীসভায় প্রবেশ করেন গার্গী।
মা বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নিজে কেন অন্য মতাদর্শে বিশ্বাসী, সেই প্রসঙ্গে গার্গী বলেন, “মা সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করে গিয়েছেন। আমারও উদ্দেশ্য মানুষের সেবা করা, সেই উদ্দেশ্য নিয়েই বড় হয়েছি আমি। হয়তো দুটো আলাদা দল, তাই মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে। বিজেপি অনেকদিন থেকেই করি।”

আরও পড়ুন : এই সময়ের পর আর খাবার পরিবেশন নয়, মিলবে না গরম জলটুকুও! রেলের নতুন নিয়মে মাথায় হাত যাত্রীদের
বিধায়ক হওয়েই মন্ত্রীসভায় সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দল আমাকে যোগ্য মনে করেছে, তাই প্রার্থী করেছে এবং মন্ত্রিত্ব দিয়েছে। আমি মায়ের মতো মানুষের সেবা করতে চাই। কান্দির মানুষ আমাকে সুযোগ করে দিয়েছে। আমি শুধু আর বিধায়ক নই, একজন রাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে। দায়িত্ব বেড়েছে, আমি সব মানুষের হয়েই কাজ করব।” রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর এখন গার্গী দাস ঘোষের দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের। মায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের স্মৃতি যেন তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।













