বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করল নবান্ন (Nabanna)। কর্মজীবনের সমস্ত তথ্য ও নথি সুরক্ষিত রাখতে এবার কাগুজে সার্ভিস বুককে পুরোপুরি ডিজিটাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই কারণে পুরনো কাগুজে সার্ভিস বুক স্ক্যান করে নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ দিয়েছে নবান্নের অর্থ দপ্তর। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সার্ভিস বুক কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
সরকারি কর্মীদের চাকরিজীবনে সার্ভিস বুক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। এই নথির ভিত্তিতেই কর্মীর চাকরিতে স্থায়ীকরণ, পে-ফিক্সেশন এবং মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বকেয়া মেটানোর মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়। এতদিন এই সমস্ত তথ্য কাগজে সংরক্ষিত থাকত। ফলে নথি হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত।
এই সমস্যা এড়াতেই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সমস্ত তথ্য অনলাইনে আনা হবে। ডব্লিউবিআইএফএমএস (WBiFMS) পোর্টালের মাধ্যমে এই তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে। এর আগে জিপিএফ এবং সেলফ অ্যাপ্রাইসাল রিপোর্টের মতো একাধিক পরিষেবা ইতিমধ্যেই অনলাইনে চালু হয়েছে।
সার্ভিস বুক ডিজিটাল করার নির্দেশ নবান্নের (Nabanna)
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তরে থাকা কাগুজে সার্ভিস বুক স্ক্যান করে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা HRMS পোর্টালে আপলোড করতে হবে। এই ডিজিটাল সংস্করণই হবে কর্মীদের ‘ই-সার্ভিস বুক’। উল্লেখ্য, এই ই-সার্ভিস বুক তৈরির কাজ ২০১৯ সালেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখনও অনেক দপ্তরে সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। তাই এবার দ্রুত কাজ শেষ করতে কড়া নির্দেশ জারি করেছে অর্থ দফতর।
কীভাবে সম্পন্ন হবে পুরো প্রক্রিয়া?
সরকার এই পুরো কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা নির্ধারণ করেছে। প্রথমে প্রতিটি অফিসের সার্ভিস বুকের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা কাস্টোডিয়ানদের সমস্ত কাগুজে সার্ভিস বুকের পাতা স্ক্যান করতে হবে। মোবাইল অ্যাপ বা স্ক্যানারের সাহায্যে এই স্ক্যান করা যাবে এবং ২০ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই পোর্টালে আপলোড করতে হবে। এরপর স্ক্যান করা নথি পোর্টালে আপলোড হওয়ার পরে কর্মীদের নিজেদের ‘ইএসই’ (eSE) পোর্টালে লগইন করতে হবে। সেখানে আপলোড হওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের প্রাথমিক তথ্য, নিয়োগ সংক্রান্ত বিবরণ এবং বেতনের খুঁটিনাটি তথ্য ধাপে ধাপে পূরণ করতে হবে। কর্মীরা তথ্য জমা দেওয়ার পর কাস্টোডিয়ান সেই তথ্য আবার যাচাই করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন।

আরও পড়ুনঃ ভোটের মুখে SSC-র জোড়া সূচি প্রকাশ! শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন সংশয়
তথ্য ভুল হলে কী করবেন কর্মীরা?
ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় যাতে ভুল তথ্য জমা না হয়, সে বিষয়েও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কাস্টোডিয়ানের অনুমোদনের পরে কর্মীরা তাঁদের ই-সার্ভিস বুক দেখতে পারবেন। যদি সেখানে কোনও তথ্যের অমিল চোখে পড়ে, তাহলে পোর্টালের নির্দিষ্ট ‘ফিডব্যাক’ অপশন ব্যবহার করে তা জানানো যাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজন হলে তথ্য সংশোধন করবেন। পুরো ব্যবস্থাটির মাধ্যমে সরকারি কর্মীদের নথিপত্র সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক কাজকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার (Nabanna)।












