বিবাহিতা কন্যাও এবার সরকারি কর্মীর ‘পরিবার’! সার্ভিস রুলসে ঐতিহাসিক বদল নবান্নের

Published on:

Published on:

Nabanna Recognises Married Daughters in Death Gratuity Rule
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের সরকারি কর্মী ও পেনশনারদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন (Nabanna)। এতদিন বিয়ে হয়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েরা পরিবার সদস্য হিসেবে ধরা হতো না। এবার সেই নিয়মেই বড় বদল আনল অর্থ দপ্তর। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিবাহিতা কন্যারাও সরকারি কর্মীর পরিবারের বৈধ সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। সংবিধানের ৩০৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা বলে এই পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে।

গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে ‘পরিবার’-এর নতুন সংজ্ঞা (Nabanna)

এই সংশোধনের সবচেয়ে বড় দিক হলো ডেথ গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে ‘পরিবার’ শব্দের পরিধি বাড়ানো। আগে অনেক সময় বিবাহিতা কন্যারা এই সুবিধার বাইরে থাকতেন। কিন্তু নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এখন থেকে বিবাহিতা কন্যাও সরকারি কর্মীর পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন এবং প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের সদস্য হিসেবে ধরা হবে –

  • স্বামী বা স্ত্রী
  • পুত্র (সৎ পুত্র-সহ)
  • কন্যা (অবিবাহিতা, বিবাহিতা, বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্না এবং
  • সৎ কন্যাও অন্তর্ভুক্ত)
  • পিতা ও মাতা
  • ১৮ বছরের কম বয়সী ভাই
  • অবিবাহিতা বা বিধবা বোন

অর্থাৎ, কন্যার বৈবাহিক অবস্থার উপর আর কোনও বাধা থাকছে না।

সার্ভিস বুকে নাম কাটা যাবে না

প্রশাসনিকভাবে এতদিন একটি প্রথা চালু ছিল মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে তাকে আর ‘নির্ভরশীল’ হিসেবে ধরা হতো না এবং সার্ভিস বুক থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হতো। অর্থ দপ্তরের নতুন নির্দেশিকায় সেই প্রথা বাতিল করা হয়েছে। এখন স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিয়ে হয়ে গেলেও সার্ভিস বুকে মেয়ের নাম নথিভুক্ত রাখতে হবে। বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তনের কারণে কোনওভাবেই তার নাম সরকারি নথি থেকে মুছে ফেলা যাবে না।

আরও পড়ুনঃ চূড়ান্ত ভোটার তালিকার দিন স্থির! ৮০ লক্ষ অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

নথি অনুযায়ী, নবান্ন (Nabanna) তরফে এই নির্দেশিকা ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি হয়েছে। আরও জানানো হয়েছে, এই নিয়ম চালুর আগে যদি বিবাহিতা বা বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যাকে নিয়ে কোনও ডেথ গ্র্যাচুইটির আবেদন বা মামলা অমীমাংসিত অবস্থায় থেকে থাকে, তবে সেগুলিকে নতুন সংশোধিত নিয়ম মেনে পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক ফাইলে এবার গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন এই সংশোধনের ফলে রাজ্যের বহু সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবার সরাসরি উপকৃত হবেন বলেই প্রশাসনিক মহলে মনে করা হচ্ছে।