ভারতে অবৈধভাবে বসবাস! বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হল কয়েক হাজার অনুপ্রবেশকারীর নাম

Published on:

Published on:

Names of 2,680 Bangladeshi infiltrators living in India sent to Dhaka.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের (Bangladeshi Infiltrators) বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া অবস্থান এবং সম্ভাব্য ডিপোর্টেশন বা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা তীব্র হওয়ার পর থেকেই বহু সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী বহু ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও খবর সামনে এসেছে। বিশেষ করে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীগুলিকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

ভারতে বসবাসরত ২৬৮০ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর (Bangladeshi Infiltrators) নাম পাঠানো হল ঢাকায়:

সম্প্রতি বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী ২,৬৮০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিকের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, বহু ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। কিছু ফাইল পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে ভারত। কেন্দ্রের দাবি, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া মেনেই প্রত্যেকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: ‘বাংলায় গণতন্ত্র নেই..আমি হাইকোর্টে যাব’, সোনারপুরে হামলার ঘটনায় বড় সিদ্ধান্তের পথে অভিষেক

এদিকে উত্তর ২৪ পরগনার আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত পার হওয়ার উদ্দেশ্যে বহু মানুষ সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছিলেন এবং বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কয়েকজন জানিয়েছেন, তাঁরা কাজের সন্ধানে বা আত্মীয়-পরিজনের সহায়তায় ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে অবৈধ বসবাস সংক্রান্ত কড়াকড়ি, সম্ভাব্য গ্রেফতারি, জরিমানা কিংবা আইনি জটিলতার আশঙ্কায় তাঁরা নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। যদিও প্রত্যেকের পরিচয় ও দাবি প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারি সূত্রের খবর, বিভিন্ন জেলায় মোট ১১টি হোল্ডিং সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে শতাধিক সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিককে রাখা হয়েছে। তাঁদের পরিচয়পত্র, নথি এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের বক্তব্য, যাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে বসবাসের প্রমাণ মিলবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা, সরকারি সুবিধাভোগীর তালিকা এবং অন্যান্য সরকারি নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বেড়েছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারিও জোরদার হয়েছে।

Names of 2,680 Bangladeshi infiltrators living in India sent to Dhaka.

আরও পড়ুন: অপারেশন সিঁদুরেও হয়নি শিক্ষা? পাকিস্তান থেকে নতুন ষড়যন্ত্রের জাল লস্কর-ই-তৈবার

বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে কোনও রকম রাজনৈতিক বা আবেগপ্রসূত অবস্থান নয়, বরং সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রত্যাশাও করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা বাড়লে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, পাশাপাশি সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের (Bangladeshi Infiltrators) গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তে বর্তমানে নজরদারি, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং আইনি প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে এক নতুন বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে।