‘পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে প্রাণ গিয়েছে ভারতীয়দেরও’, জি-৭ সামিটে ট্রাম্পের পাশে বসেই কড়া প্রতিক্রিয়া মোদীর

Published on:

Published on:

Narendra Modi gave reaction on the deaths of Indian sailors at the G7 summit.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে এতদিন নীরব থাকলেও, মঙ্গলবার প্রথমবার প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন তিনি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতেই মোদী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ভারতীয়দেরও প্রাণ গিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। একইসঙ্গে তিনি বিশ্ব রাজনীতিতে পারস্পরিক আস্থার সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর প্রসঙ্গে জি-৭ সামিটে ট্রাম্পের পাশে বসেই কড়া প্রতিক্রিয়া মোদীর (Narendra Modi):

মোদী (Narendra Modi) তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সমস্যা নয়, তার প্রভাব পড়ছে গোটা বিশ্বের উপর। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নাবিকদের নিরাপত্তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁরাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের চালিকাশক্তি।” তিনি বিশ্বনেতাদের মনে করিয়ে দেন যে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনও একটি দেশের দায়িত্ব নয়, বরং তা গোটা বিশ্বের যৌথ দায়বদ্ধতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভারত নিজের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উদ্বেগকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরল।

আরও পড়ুন: বড় পদক্ষেপ! খাবারে এবং প্যাকেটে নিষিদ্ধ হল এই বস্তু, কড়া নির্দেশিকা FSSAI-র

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “শান্তি ফেরানোর সব প্রচেষ্টাকেই ভারত সমর্থন করে।” একইসঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌচলাচলের উপর জোর দেন। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে তেল পরিবহণের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে হয় এবং ভারতের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। মোদী বলেন, “এই সংঘাতের জেরে বহু দেশের সম্পদ ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই অবস্থান কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে বার্তা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে ওমান উপসাগরে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘সেট্টেবেলো’-তে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয়। আমেরিকার দাবি, জাহাজটি তাদের নির্দেশ অমান্য করে ইরানের বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল, সেই কারণেই অভিযান চালানো হয়। এই ঘটনার পর ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে দেশে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও মোদীর আসন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Narendra Modi gave reaction on the deaths of Indian sailors at the G7 summit.

আরও পড়ুন: RG Kar মামলায় নতুন মোড়! তড়িঘড়ি দাহের অভিযোগ ঘিরে পানিহাটি শ্মশানে CBI, খোঁজা হচ্ছে কোন তথ্য?

জি-৭ মঞ্চে মোদী (Narendra Modi) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে আস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আজ পৃথিবীতে সম্পদের অভাব নেই, অভাব হলো আস্থার।” খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও অর্থনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেশগুলির পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বিশ্বাসের উপরেই টিকে থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “প্রযুক্তি বা সরবরাহ ব্যবস্থা কখনও চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে না।” পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে হরমুজ প্রণালী এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধেই বার্তা দিয়েছেন।