বাংলাহান্ট ডেস্ক: জ্বালানি সংকট এর মধ্যে রাশিয়ার তেল ভারতে শোধন করাতে চায় বাংলাদেশ (India-Bangladesh)। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সাময়িক স্বস্তির বার্তা এসেছে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করেছেন। একইসঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ পথের আশ্বাস দিয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়, ফলে পরিস্থিতির সামান্য পরিবর্তনও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সম্পর্কের নয়া সমীকরণ
তবে এই অস্থিরতার ধাক্কা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে বাংলাদেশে। মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর জ্বালানি আমদানির ঝুঁকি সামনে আসতেই বিকল্প উৎস খোঁজার পথে হাঁটছে ঢাকা। সূত্রের খবর, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ভারতে শোধন করে তা বাংলাদেশে আমদানির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির পথে এগোচ্ছে দেশটি। এই উদ্যোগকে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার পরে ভারতের এই পড়শি দেশেও বাড়ছে পেট্রোলের দাম! পকেটে টান আমজনতার
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে নিজেদের রিফাইনারিতে তা শোধন করবে এবং পরিশোধিত পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি করবে। এই ব্যবস্থায় ক্রুড অয়েল আমদানি, পরিশোধন এবং পরিবহন সংক্রান্ত সমস্ত ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বিদেশ মন্ত্রকের সহায়তা চেয়েছে।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গেও নতুন জ্বালানি সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি রিফাইনারিতে বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল শোধন, এলপিজি টার্মিনাল স্থাপন এবং জ্বালানি সরবরাহের নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কর্মকর্তাদের মতে, এই দ্বিমুখী কৌশল মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

আরও পড়ুন: ফের ইতিহাস তৈরির জন্য প্রস্তুত! এবার যা করে দেখাল ISRO, জানলে চমকে যাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের (India-Bangladesh) নিজস্ব শোধন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও এই সিদ্ধান্তের বড় কারণ। চট্টগ্রামে অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের হালকা তেল শোধনের জন্য উপযুক্ত, ভারী রাশিয়ান ক্রুড প্রক্রিয়াকরণে তা সক্ষম নয়। ফলে ডিজেল, অকটেন ও জেট ফুয়েলের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও উপসাগরীয় দেশের রিফাইনিং সক্ষমতা ব্যবহার করলে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।













