বাংলা হান্ট ডেস্ক : সরকারি হাসপাতালগুলিতে (Government Hospital) নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নজরদারি আরও কড়া করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। এবার থেকে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, টেকনিশিয়ান থেকে প্রশাসনিক বিভাগের কর্মী— সকলের জন্য চালু হতে চলেছে আলাদা রঙের সরকারি পরিচয়পত্র। স্বাস্থ্যভবনের তরফে জারি হওয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আগামী ১ জুন থেকেই নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালগুলিতে (Government Hospital) বড় সিদ্ধান্ত
প্রশাসনের মতে, আলাদা রঙের সরকারি পরিচয়পত্রের ফলে হাসপাতালের ভিতরে কর্মীদের পরিচয় নির্ধারণ যেমন সহজ হবে, তেমনই বাড়বে নিরাপত্তাও। গত ১৫ মে এসএসকেএমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে কর্মীদের শনাক্তকরণ, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এবার রঙভিত্তিক আই-কার্ড চালুর পথে হাঁটছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, গত কয়েক মাসে একাধিক সরকারি হাসপাতালে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ, ভুয়ো পরিচয়ে ঘোরাফেরা এবং নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অনেক সময় হাসপাতালের ভিড়ে কে চিকিৎসক, কে স্বাস্থ্যকর্মী বা কে প্রশাসনিক কর্মী— তা চট করে বোঝা যায় না। নতুন রঙভিত্তিক পরিচয়পত্র চালু হলে এই বিভ্রান্তি অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপে কলকাতার সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে এই প্রকল্প কার্যকর করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে এসএসকেএম, আরজি কর, এনআরএস, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ-সহ একাধিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি ভবনে পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য আলাদা ‘নোডাল পার্সন’ নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পরিচয়পত্র তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রতিটি হাসপাতালে উন্নত ইন্টারনেট সংযোগ, নির্দিষ্ট অফিস ডেস্ক, তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবক রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। আগামী ২৫ মে থেকে শুরু হবে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এবং ২৮ মে-র মধ্যে তা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নির্দিষ্ট লিঙ্কে নিজেদের ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে পারবেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি হবে নতুন পরিচয়পত্র।

আরও পড়ুন : আরও কড়া যাচাই প্রক্রিয়া, ভেরিফিকেশনে এই ‘ভুল’ ধরা পড়লেই নাম বাদ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে
সংশ্লিষ্ট নোডাল অফিসারের মাধ্যমে কর্মীদের হাতে আই-কার্ড তুলে দেওয়া হবে। সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও আধুনিক করে তুলতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।













