বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী ভারতীয় জাহাজগুলির কাছ থেকে কোনও টোল আদায় করেনি এবং ভবিষ্যতেও হরমুজ প্রণালীতে ভারতকে (India-Iran) সহায়তার বিষয়টি অব্যাহত রাখবে। এই প্রসঙ্গে ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহলি জানিয়েছেন যে, ‘আপনারা ভারত সরকারকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন; আমরা এখনও পর্যন্ত কোনো টোল আদায় করিনি।’ তিনি এটাও বলেছেন যে, এই কঠিন সময়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় রয়েছে এবং উভয় দেশের স্বার্থও অভিন্ন রয়েছে।
ভারতের প্রসঙ্গে কী জানিয়েছে ইরান (India-Iran):
এর পাশাপাশি ইরান এটাও আশ্বাস দিয়েছে যে, তারা ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী নিরাপদে অতিক্রম করতে সহায়তা করবে। ফাতালি বলেন, ভারত সরকারের সঙ্গে ইরানের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং ভারতীয় জাহাজগুলি যাতে কোনও সমস্যা ছাড়াই এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারে সেই বিষয়টিও জানিয়েছেন তিনি। ফাতহলি জানান ইরানের বিদেশমন্ত্রী ভারতকে তাঁর ৫ টি বিশেষ ও বিশ্বস্ত বন্ধু দেশের অন্যতম হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ভারতও টোল আদায়ের খবর অস্বীকার করেছে: ভারত এর আগে স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যে, জাহাজ চলাচলের জন্য তারা ইরানকে কোনও টোল দেয়নি। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের পর, যখন জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ ছিল, তখন ৯ টি ভারতীয় LPG জাহাজ হরমুজ প্রণালী নিরাপদে অতিক্রম করেছিল। এদিকে, পারস্য উপসাগরে এখনও প্রায় ১৫ টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে।
আরও পড়ুন: নিলামে জলের মতো টাকা খরচ করেও মিলছে না লাভ! কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে শাহরুখের KKR?
হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ: জানিয়ে রাখি যে, ভারতের অপরিশোধিত তেল এবং LPG আমদানির প্রায় অর্ধেক হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ওই রুটে উত্তেজনা বৃদ্ধি ভারতের জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, ফাতালি ভারতীয় জনগণ ও সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে, এই কঠিন সময়ে ভারত একজন বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছে।
আরও পড়ুন: ৬.৫ ঘণ্টার সফর হবে ২.৫ ঘণ্টায়! জানুন দিল্লি-দেরাদুন ইকোনমিক করিডোরের ১০ টি চমকপ্রদ তথ্য
হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে: ফাতহলি হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন যে, ওই এলাকাটি ইরানের এখতিয়ারভুক্ত। যুদ্ধের আগে এই পথটি খোলা ছিল, কিন্তু হামলার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। তিনি সংঘাত চলাকালীন স্কুল ও হাসপাতালে হামলা এবং চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েলকে অভিযুক্ত করেন। তাঁর মতে, ইরানের জন্য কূটনীতি অপরিহার্য, কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে ইরান আমেরিকাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারে না। আমেরিকা যদি বেআইনি দাবি না করে, তবে তেহরান আলোচনা করতে প্রস্তুত। তিনি বলেছেন, আমেরিকা ইরানের শর্ত মেনে নিলে আলোচনা সম্ভব। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন এই অবরোধের লক্ষ্য হল ইরানের তেল বিক্রি বন্ধ করা।












