বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের ভোটে (West Bengal Election) এখন একটা নতুন ছবি সামনে আসছে। অনেক মানুষ ভোট দিতে যাচ্ছেন, কিন্তু কাউকেই পছন্দ করছেন না। তাই ইভিএমে ‘NOTA’ বোতাম চাপছেন। মানে, “এদের মধ্যে কাউকেই চাই না” এই বার্তাই দিচ্ছেন ভোটাররা। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট থেকে শুরু করে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন, সব জায়গাতেই এই প্রবণতা দেখা গেছে। এতে স্পষ্ট যে, ভোটারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
NOTA ভোটে বাড়ছে অসন্তোষের ইঙ্গিত (West Bengal Election)
ভোট (West Bengal Election) নিয়ে আগের মতো উৎসাহ নেই। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের একাংশের মধ্যে এমনটাই মনে করছেন অনেকেই। তাঁদের কাছে পুরো ভোট প্রক্রিয়াটা অনেক সময় গুরুত্বহীন মনে হয়। প্রার্থীদের কেউই তাঁদের বিশ্বাস জাগাতে পারছেন না এই ধারণা তৈরি হচ্ছে ধীরে ধীরে।
এই কারণেই অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ‘NOTA’। অর্থাৎ, ভোট দিচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু কাউকেই সমর্থন করছেন না। অনেক ভোটার বলছেন, তাঁরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকতে চান না, কিন্তু কোনও দল বা প্রার্থীকে বিশ্বাসও করতে পারছেন না। তাই ‘NOTA’ই তাঁদের একমাত্র পথ।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৬ লক্ষ ৪৬ হাজার ভোট পড়েছিল ‘NOTA’-তে, যা মোট ভোটের প্রায় ১.০৮ শতাংশ। কলকাতা ও আশপাশের অনেক কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষ এই অপশন বেছে নিয়েছিলেন। মহেশতলা, হাওড়া মধ্য, বেহালা পূর্ব ও পশ্চিম, টালিগঞ্জ, সব জায়গাতেই এই প্রবণতা চোখে পড়ার মতো ছিল।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও একই ছবি দেখা যায়। একাধিক কেন্দ্রে ১৫ হাজার থেকে ২৪ হাজার পর্যন্ত ভোট পড়ে ‘NOTA’-তে। সংখ্যাটা হয়তো খুব বড় নয়, কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে থাকা বার্তাটা গুরুত্বপূর্ণ যে মানুষের একাংশ রাজনীতির উপর ভরসা হারাচ্ছেন। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, এই মানুষগুলো ভোট দেওয়া বন্ধ করেননি। তাঁরা এখনও ভোট দিতে যাচ্ছেন, নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সেই ভোটের মাধ্যমেই তাঁরা জানাচ্ছেন তাঁদের অসন্তোষ।

আরও পড়ুনঃ ৭০০০ টাকা শিক্ষা ভাতা, সঙ্গে ২০০০ ডিজিটাল অ্যালাউন্স! অষ্টম বেতন কমিশনের প্রস্তাব ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে
উল্লেখ্য, ‘NOTA’ এখন তাই শুধু একটা বোতাম নয়। এটা হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের চুপচাপ প্রতিবাদের ভাষা। রাজনীতি এই বার্তাকে কতটা গুরুত্ব দেয়, সেটাই এখন দেখার (West Bengal Election)।

















