ভারত মালদ্বীপ তিক্ততা তুঙ্গে! ‘আমি গ্যারান্টি দিতে পারিনা’, কীসের ইঙ্গিত দিলেন জয়শংকর?

বাংলা হান্ট ডেস্ক : মালদ্বীপ (Maldives) বিতর্কে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। দ্বীপরাষ্ট্রের নবম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই তোলপাড় শুরু করেছেন মহম্মদ মুইজ্জু (Mohamed Muizzu)। চীনপন্থী এই সরকারের ভারত (India) বিরোধীতা যে খুব একটা অস্বাভাবিক নয় সেকথা ভালোই বুঝতে পারছে সবাই। তাছাড়া লাক্ষাদ্বীপ (Lakshadweep) ইস্যু যে হিমশৈলের চূড়া মাত্র, সেকথাও এখন বেশ পরিস্কার। আর এই পরিস্থিতিতে এবার প্রথমবার মুখ খুললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর (S Jaishankar)।

   

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লাক্ষাদ্বীপ প্রোমোট করতেই তেড়েফুঁড়ে আসে মালদ্বীপের তিন মন্ত্রী। মোদী সহ সমগ্র ভারতকে নিয়ে করতে থাকেন কটূক্তি। যার জেরে ভারতীয়রাও শুরু করেন বয়কট মালদ্বীপ ট্রেন্ড। এইদিন নাগপুরের টাউনহলে এস জয়শংকরকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘দেখুন রাজনীতি হল রাজনীতি। সব দেশই যে ভারতের বন্ধু হবে তেমন কোনও গ্যারান্টি নেই। এমন ভাবার কোনও কারণও নেই যে সব সময় সবাই আমাদের পাশে থাকবে বা সব ইস্যুতে সহমত হবে।’

সেই সাথে তিনি বিগত ১০ বছরের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এই সময়কালে বিশ্বের একাধিক দেশের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছে নয়া দিল্লি। তবে তার মানে এই নয় যে, সকলেই ভারতের পক্ষ নেবে। এর আগে পর্যন্ত মালদ্বীপ সরকারও ভারতের পক্ষেই ছিল। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করার পরপরই নানাবিধ উপঢৌকন নিয়ে মালদ্বীপ সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আরও পড়ুন : তিন দশক আগেই করেছিলেন রাম মন্দিরের ভবিষ্যদ্বাণী, কে এই দেবরাহ বাবা? জানুন তাঁর অলৌকিক কাহিনী

যদিও সেই সময় মালদ্বীপের শাসন ব্যবস্থা ছিল মালদ্বীপ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এমডিপি)র হাতে। প্রেসিডেন্ট ছিলেন ‘ভারতবন্ধু’ ইব্রাহিম মহম্মদ সলিহ। তবে চিনের সাথে সখ্যতা বেড়েছিল সলিহর পূর্বসূরি আবদুল্লা ইয়ামিনের আমলেই। সেই সময় বেজিং থেকে প্রচুর ঋণও নিয়েছিল মালদ্বীপ। এরপর ২০১৮ সালে মালদ্বীপ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি জয়লাভ করলে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শপথ নেন ইব্রাহিম মহম্মদ সলিহ। যারপর দ্বীপরাষ্ট্রে নৌঘাঁটি বানানোর স্বপ্ন মাটি হয়ে যায় ড্রাগন সরকারের।

আরও পড়ুন : কেন ছবি তুলতে আসা ভক্তদের গালিগালাজ করেছিলেন রূপম? অবশেষে মুখ খুললেন শিল্পীর স্ত্রী

image 1670739946

যে কারণে এবার চীনপন্থী মুইজ্জু রাষ্ট্রপতির আসনে বসতেই রীতিমত তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে চিন সরকার। মূলত বেজিং-র মদতেই ভারতীয় সেনাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মালদ্বীপ। পূর্বে ভারত সরকারের করা সমস্ত সাহায্যের কথা বিস্মৃত হয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র। এমতাবস্থায় নয়া দিল্লির অবস্থান কী হবে তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।