‘কাঙাল’ পাকিস্তানের শোচনীয় অবস্থা! এবার সেনা-নিয়ন্ত্রিত সংস্থাও বিক্রি করতে চায় সরকার

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) অর্থনৈতিক সঙ্কট ক্রমশই চরম আকার নিচ্ছে। যে বিপর্যয়কে একসময় ইসলামাবাদ কল্পনা বা অতিরঞ্জন বলে উড়িয়ে দিত, আজ সেই সঙ্কটই কার্যত দেশের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বৈদেশিক ঋণের বোঝা, আর সমান্তরালে দ্রুত হারে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার। রিজার্ভ নেমে আসায় নিয়মিত আমদানি, ঋণের কিস্তি শোধ ও অভ্যন্তরীণ ব্যয় মেটানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এর ফলেই একাধিক আন্তর্জাতিক ঋণের কিস্তি পরিশোধে সমস্যায় পড়েছে পাকিস্তান সরকার।

এবার সেনা-নিয়ন্ত্রিত সংস্থাও বিক্রি করতে চায় পাকিস্তান (Pakistan)

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার এক ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। নগদ অর্থে ঋণ শোধ করার ক্ষমতা না থাকায়, পাকিস্তান অস্ত্র ও সামরিক সম্পদ দিয়েই দেনা মেটানোর প্রস্তাব দিচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কার্যত ‘বার্টার’ পদ্ধতিতে অর্থনৈতিক দায় মেটানোর এই কৌশল পাকিস্তানের আর্থিক দুরবস্থার গভীরতাই প্রকাশ্যে এনেছে। বিশ্লেষকদের একাংশ একে মরিয়া সিদ্ধান্ত হিসেবেও দেখছেন।

আরও পড়ুন: ‘ধন্যবাদ মহারাষ্ট্র’, BMC নির্বাচনে বিজেপি জোটের জয়ে আপ্লুত মোদী-শাহ! করে দেখালেন ফড়নবিশ

সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদি আরবের কাছে পাকিস্তানের প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ রয়েছে। সেই ঋণ মেটাতে ইসলামাবাদ সৌদি আরবকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। চিন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই যুদ্ধবিমানকে রফতানি করেই ঋণের দায় কমানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই পথে হেঁটে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছেও থাকা প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ শোধের পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান। ওই ঋণের বদলে পাকিস্তানের সেনা-পরিচালিত সংস্থা ফৌজি ফাউন্ডেশনের শেয়ার তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্তগুলি স্পষ্ট করে দেয় যে অর্থনৈতিক সংস্কার, রাজস্ব বৃদ্ধি কিংবা উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ টানার বদলে পাকিস্তান সামরিক সম্পদকেই আর্থিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান রফতানি বা সেনা-নিয়ন্ত্রিত সংস্থার শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে শুধু ঋণ শোধ নয়, একই সঙ্গে কিছু দেশের ভূ-রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টাও করছে ইসলামাবাদ। তবে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিকে কতটা স্বস্তি দেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

Pakistan now wants to sell off army-controlled companies.

আরও পড়ুন: নির্বাচনের আবহে ভয়াবহ পরিস্থিতি বাংলাদেশে! ৪৫ দিনে খুন ১৫ হিন্দু, সামনে এল চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৪১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এবং আনুমানিক ৯২ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণের বোঝা নিয়ে কোনও দেশ যদি যুদ্ধবিমান বা সামরিক সংস্থার শেয়ার দিয়ে দেনা শোধ করতে বাধ্য হয়, তবে তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সার্বভৌমত্বের উপর গুরুতর প্রশ্ন তোলে। এই ধরনের পদক্ষেপে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান হবে না। কঠোর আর্থিক সংস্কার, কর ব্যবস্থার উন্নতি এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির পথেই যে স্থায়ী সমাধান রয়েছে, তা মানছেন অধিকাংশ অর্থনৈতিক বিশ্লেষক।