বাংলা হান্ট ডেস্ক : বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ-খুন মামলার (Baruipur Incident) তদন্তে বুধবার ভোরে ঘটে গেল এক নাটকীয় ঘটনা। অপরাধস্থলে ঘটনার পুনর্নির্মাণ চলাকালীন পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল মামলার অন্যতম অভিযুক্তের। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি চালায়। সেই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ।
বারুইপুর মামলায়(Baruipur Incident) পুলিশের এনকাউন্টারের মৃত অভিযুক্ত
বারুইপুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে। মঙ্গলবারই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা চতুর্থ অভিযুক্তকেও যৌথ অভিযানে পাকড়াও করেছে তদন্তকারী দল।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে মামলার অন্যতম অভিযুক্তকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ। ঘটনার প্রতিটি মুহূর্ত যাচাই করতে সেখানে পুনর্নির্মাণের কাজ হওয়ার কথা ছিল। সেই সময়েই হঠাৎ পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত আচমকা এক পুলিশকর্মীর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। এরপর পুলিশকে লক্ষ্য করে একটি গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা নেয়।
গুলিবিদ্ধ অভিযুক্তকে দ্রুত উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর গোটা বিষয়টি ঘিরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, মৃত ওই অভিযুক্তই শেষবার নির্যাতিতার সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছিল। সেই ফুটেজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ধরে তদন্ত এগোচ্ছিল। পুলিশ মনে করছে, ঘটনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার সম্ভাবনা ছিল ওই অভিযুক্তের কাছ থেকে।

আরও পড়ুন : ১০ বছর পর কাটল জট! উচ্চ প্রাথমিকে কাউন্সেলিং শুরু, বড় ঘোষণা কমিশনের
বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় তদন্ত এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে অন্যতম অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু, অন্যদিকে পলাতক অভিযুক্তের গ্রেফতার—দুই ঘটনাই তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে কীভাবে এই অপরাধের সম্পূর্ণ ছক তৈরি হয়েছিল এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তার উত্তর খুঁজতেই এখন সমস্ত তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।













