বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের (WB Assembly Election 2026) আগে পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। আগে বুথগুলিকে চার ভাগে ভাগ করা হলেও, এবার নতুন করে ‘মোস্ট সেনসিটিভ’ (Most Sensitive Booth) নামে আলাদা একটি শ্রেণি তৈরি করা হয়েছে। এই বুথগুলিতে শুধু CRPF মোতায়েন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য কোনও কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়। কেন এমন সিদ্ধান্ত, আর কোন পরিস্থিতিতে এই বুথগুলি চিহ্নিত করা হল, তা নিয়েই বাড়ছে জল্পনা।
মোস্ট সেনসিটিভ বুথে CRPF মোতায়েন (WB Assembly Election 2026)
এবারের বিধানসভা ভোটে (WB Assembly Election 2026) বুথগুলিকে সাধারণ, সেনসিটিভ, সুপার সেনসিটিভ ও ক্রিটিকাল, এই চার ভাগের পাশাপাশি ‘মোস্ট সেনসিটিভ’ (Most Sensitive Booth) নামে নতুন একটি বিভাগে ফেলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই শ্রেণির বুথগুলিতে শুধুমাত্র সিআরপিএফই দায়িত্বে থাকবে। ১৮ এপ্রিল রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক একটি চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশ দেন। সেই চিঠি পাঠানো হয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এডিজি লিগাল, সিআরপিএফের আইজি এবং সমস্ত জেলার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের কাছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন অনেক অভিজ্ঞ আধিকারিক।
কেন শুধু CRPF?
কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেশের নানা প্রান্তে আইন-শৃঙ্খলার জটিল পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে সিআরপিএফের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সবচেয়ে বেশি। সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা হোক বা সংবেদনশীল পরিস্থিতি, এসব মোকাবিলায় তারা অভ্যস্ত। সেই কারণেই শান্তিপূর্ণ ভোট (WB Assembly Election 2026) করাতে এই বাহিনীর ওপরই ভরসা রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনী যেমন বিএসএফ, আইটিবিপি বা সশস্ত্র সীমা বল মূলত সীমান্ত রক্ষার কাজে নিয়োজিত। অন্যদিকে সিআইএসএফ নির্দিষ্ট পরিকাঠামোর নিরাপত্তায় থাকে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে সিআরপিএফের অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে বেশি বলেই কমিশনের মত।
উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটের (WB Assembly Election 2026) আগে রাজ্যে প্রায় আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই সিআরপিএফ। এবার তাদের দায়িত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে। শুধু স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নয়, সঙ্গে লাঠিও রাখতে বলা হয়েছে। আগে কিউআরটি দলের জন্য কাঁদানে গ্যাস রাজ্য পুলিশ সরবরাহ করলেও, এবার সেই দায়িত্বও সিআরপিএফকেই নিতে বলা হয়েছে।
ক্রিটিকাল ও মোস্ট সেনসিটিভ বুথের পার্থক্য কোথায়?
যে সব বুথে অস্বাভাবিকভাবে খুব বেশি বা খুব কম ভোট পড়ে, অথবা এক পক্ষের ভোট অত্যন্ত বেশি হয়, সেগুলিকে ক্রিটিকাল বুথ হিসেবে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ‘মোস্ট সেনসিটিভ’ বুথ (Most Sensitive Booth) নির্ধারণ করা হয়েছে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে।

আরও পড়ুনঃ গ্রেপ্তার হতে পারে ৮০০ কর্মী? গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় হাই কোর্টে তৃণমূল, কী বলল আদালত?
প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, কিছু জায়গায় মহিলারা দল বেঁধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন, আবার কোথাও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে বিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ‘মোস্ট সেনসিটিভ বুথে’ বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে (WB Assembly Election 2026)।












