বাংলাহান্ট ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন যুগের দিশারী হয়ে উঠছে ভারত, রয়েছে গোটা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতাও! এমনটাই মন্তব্য করেছেন স্যাম অল্টম্যান। OpenAI-এর কর্ণধার তথা চ্যাটজিপিটি-র স্রষ্টা জানান, ভারতে এআই ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়ছে এবং সেই প্রবণতা লক্ষ্য করেই এ দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা ভাবছে সংস্থা। এমনকি ভবিষ্যতে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেও কাজ করার ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বিপুল ব্যবহারকারীভিত্তি এআই উন্নয়নের জন্য এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেছে।
ভারতে (India) ব্যবসা বাড়াতে আগ্রহী OpenAI
এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটও তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের একাংশ ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে, আমেরিকার করদাতাদের অর্থে তৈরি পরিকাঠামো ব্যবহার করে ভারত ও চিনের মতো দেশে এআই পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন তোলেন, কেন আমেরিকার বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো ব্যবহার করে বিদেশে পরিষেবা দেওয়া হবে। এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে।
আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় ‘বাংলায় বলুন’ নির্দেশ! বাজেটের আগে কাউন্সিলরদের কড়া লাইন তৃণমূলের
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপড়েন কিছুটা কমেছে। শুল্ক হ্রাস এবং বাণিজ্য সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা হয়েছে। এই আবহে অল্টম্যানের ভারত-প্রশংসা অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি খাতে ভারতকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখতেই আগ্রহী ওপেনএআই।
সোমবার থেকে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হচ্ছে ‘গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’। সেই সম্মেলনে অংশ নিতে এসে অল্টম্যান জানান, ওপেনএআই-এর ব্যবহারকারীর সংখ্যায় আমেরিকার পরেই ভারতের স্থান। দেশে চ্যাটজিপিটির সক্রিয় ব্যবহারকারী বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি। বিশ্বে যত পড়ুয়া এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন, তাঁদের মধ্যে ভারতীয়রাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। গবেষণায় সহায়ক এআই টুল ‘প্রিজম’ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভারত বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রতিদিন ৮.৫০ টাকা জমালেই ৭.৭০ লক্ষ আয়? বিস্তারিত জানুন এই সরকারি স্কিম সম্পর্কে
গত বছর নয়াদিল্লিতে নতুন দপ্তর খুলেছে ওপেনএআই। সংস্থার তরফে ভারতের চারটি বড় শহরে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২০০ জন আধিকারিককে এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অল্টম্যান ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে ভারত সরকারের সঙ্গে এআই প্রযুক্তি নিয়ে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথে হাঁটা হতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অংশীদারিত্ব বাস্তবায়িত হলে ভারতের ডিজিটাল রূপান্তর আরও গতি পাবে।












