বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আগামী সোম ও মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভায় বাজেট (Kolkata Municipal Corporation Budget) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে চলেছে। তার আগেই ভাষা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে পুরসভার কাউন্সিলরদের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, এ বছরের বাজেট অধিবেশনে যেন সকলেই বাংলায় বক্তৃতা করেন।
পুরসভায় সমস্ত আলোচনা বাংলাতে হওয়ার দাবি (Kolkata Municipal Corporation Budget)
প্রতি বছরই দেখা যায়, বাজেট (Kolkata Municipal Corporation Budget) আলোচনায় অনেক কাউন্সিলর হিন্দি বা ইংরেজিতে বক্তব্য রাখেন। কিন্তু চলতি বছরে সেই প্রথা বদলাতে চায় শাসকদল। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির অভিযোগকে হাতিয়ার করে যখন গেরুয়া শিবির তৃণমূলকে আক্রমণ করছে, তখন তৃণমূল শিবির বাংলাকেই সামনে এনে পাল্টা বার্তা দিতে চাইছে। বিশেষ করে কলকাতার মতো রাজধানী শহরের পুরসভায় সমস্ত আলোচনা বাংলাতেই হোক, এমনই আবেদন জানানো হয়েছে।
এই সংক্রান্ত আবেদনে পুরসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক স্পষ্টভাবে লিখেছেন, “সারাদেশ জুড়ে বাংলার সংস্কৃতি আক্রান্ত। বাংলার মনীষীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। যে বাংলার মননে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জন গণ মন’, যে বাংলার দীপ্ত কণ্ঠে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দেমাতরম’, সেই বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে।”
এই প্রসঙ্গে বাপ্পাদিত্য বলেন, “বাঙালি যে ভাবে হেনস্থার মুখে পড়ছে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই বাংলাকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। আমি আমার দলের কাউন্সিলরদের কাছেই এই আবেদন জানিয়েছি। শুক্রবার মেয়র বাংলাতেই বাজেটের ভাষণ পেশ করেছেন। আশা করছি, অন্য কাউন্সিলররাও সেই পথেই চলবেন।” তবে এই নির্দেশ ঘিরে পাল্টা কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা সজল ঘোষের দাবি, “দু’টি ব্যাপার হতে পারে। এক, মেয়রকে কটাক্ষ করেই এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যাঁরা বাংলা বলতে পারেন না অথচ অধিবেশনে সময় চান, তাঁদের উদ্দেশ্যেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” আবেদনে আরও সাফ জানানো হয়েছে, “বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হয়ে কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশনে সকল বক্তৃতা বাংলায় রাখার জন্য সদস্যদের আবেদন জানানো হল।”

আরও পড়ুনঃ ‘ভাতা নয়, চাকরি চাই’, বিটেক পাস ছেলের জন্য যুবসাথী ক্যাম্পে মায়ের কান্না, করুণ ছবি কাটোয়ায়
তবে পুরসভায় শাসকদলের এমন বহু কাউন্সিলর রয়েছেন, যাঁদের মাতৃভাষা হিন্দি বা উর্দু। মুখ্য সচেতকের এই আহ্বানের পর তাঁদেরও বাংলাতেই বক্তব্য রাখতে হবে বলে স্পষ্ট হয়েছে। আগামী সপ্তাহের বাজেট অধিবেশনে এই ভাষা বিতর্ক নতুন করে কতটা রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ায়, এখন সেদিকেই নজর শহরের রাজনৈতিক মহলের।












