বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিটেক পাশ করেও চাকরি মেলেনি ছেলের। তাই দেড় হাজার টাকার ভাতার ফর্ম নিতে এসে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না মা। কাটোয়ায় এমনই আবেগঘন ছবি সামনে এল। শুধু কাটোয়া নয়, জেলার পর জেলা জুড়ে ‘যুবসাথী’ ক্যাম্পে (Yuvasathi Scheme) লম্বা লাইন দেখা গেল। তবে ভাতার আবেদন করতে এলেও অনেকের মুখেই শোনা গেল একটাই কথা- ভাতা নয়, চাকরি চাই।
ছেলের জন্য ভাতার ফর্ম নিতে এসে কান্না (Yuvasathi Scheme)
কাটোয়া ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কৃষ্ণা দত্ত ছেলের জন্য ভাতার ফর্ম নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর ছেলে বিটেক পাশ করেও এখনও বেকার। সেই কষ্টের কথাই চোখের জলে জানান তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নাম রেজিস্ট্রেশনের জন্য দেখা গেল লম্বা লাইন। মাসে দেড় হাজার টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে এই আশাতেই বহু যুবক-যুবতী আবেদন করতে এসেছেন। অনেকেই বলছেন, একেবারে কিছু না পাওয়ার থেকে কিছু পাওয়া ভালো (Yuvasathi Scheme)।
বেহালা পূর্বের বাসিন্দা ও আবেদনকারী উদ্দালক দত্ত বলেন, যাঁরা এখনও কাজ পাননি, তাঁদের জন্য এই সাহায্য কিছুটা উপকার করবে। অঙ্ক যতই কম হোক, কিছু না পাওয়ার থেকে পাওয়াটা ভালো। রায়গঞ্জের আবেদনকারী বসন্তকুমার সরকার জানান, চাকরির ফর্ম ফিল আপ করা থেকে শুরু করে খাতা-কলম কেনা, সবেতেই খরচ হয়। একটা বয়সের পর বাড়ি থেকে টাকা চাইতেও সংকোচ লাগে। এই ভাতা সেই খরচ সামলাতে কিছুটা সাহায্য করবে।
তবে অনেকেরই বক্তব্য, দেড় হাজার টাকার ভাতা যথেষ্ট নয়। বেহালা পূর্বের সন্দীপকুমার মিত্র বলেন, ১ হাজার ৫০০ টাকার বদলে যদি ১৫ হাজার টাকার একটা চাকরি মিলত, তাহলে অনেক বেশি উপকার হতো। মহিষাদলের কেয়া জানা জানান, তিনি ২০২১ সালে বিএসসি নার্সিং করেছেন। তারপর বহুবার পরীক্ষা দিয়েও চাকরি পাননি। তাঁর কথায়, চাকরি হলে সেটাই ভালো। কোচবিহারের বিভাকর অধিকারী বলেন, দেড় হাজার টাকা দিয়ে কিছুই হয় না। দিনে ৫০ টাকা করে হয়। হোটেলে ভাত খেলেও ৫০ টাকার বেশি লাগে।

আরও পড়ুনঃ ক’দিন আগে বেড়েছে টাকা, মমতার লক্ষ্মীর ভান্ডার ঘিরে এবার বড় অভিযোগ সামনে!
আবার অন্য সুরও শোনা গেল। আসানসোলের শুভদীপ সরকার বলেন, চাকরির অবস্থা খুব খারাপ। ছাত্র-ছাত্রীদের হাতখরচ চালানোর জন্য সরকার যে টাকা দিচ্ছে, তা অনেকের ক্ষেত্রে কাজে আসছে। মাসে দেড় হাজার টাকার ভাতার জন্য লাইনে দাঁড়ালেও অধিকাংশের মুখে একটাই দাবি, ভাতার পাশাপাশি চাই স্থায়ী চাকরি। জেলার পর জেলা জুড়ে যুবসাথী (Yuvasathi Scheme) ক্যাম্পে সেই ছবিই ধরা পড়ল।












