বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সরকারি একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে (Government Scheme) নাম না থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মালদা জেলার বাসিন্দারা। আবেদন করার পরেও ভাতা না মেলায় শনিবার দুপুরে চাঁচল মহকুমার চাঁচল ২ ব্লকের চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরাতন খানপুর গ্রামের প্রায় ৩০০টি পরিবার বিক্ষোভে সামিল হন।
সরকারি প্রকল্পে (Government Scheme) নাম নেই, অভিযোগ গ্রামবাসীদের
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, লক্ষ্মী ভান্ডার, বিধবা ভাতা ও বার্ধক্য ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে (Government Scheme) আবেদন জানানো হলেও তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। একাধিকবার আবেদনপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও কোনো সুবিধা মিলছে না বলে দাবি তাঁদের। অনেক প্রবীণ বাসিন্দা বার্ধক্য ভাতার জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করছেন। তাঁদের কথায়, ব্লক অফিস, পঞ্চায়েত দফতর এবং ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরেও সমস্ত নথি জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে, সুবিধা মেলেনি।
লক্ষ্মী ভান্ডার নিয়েও ক্ষোভ
গ্রামের মহিলারাও একই অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। গৃহবধূ সোনালী বিবি ও রেহেনা পারভীনের অভিযোগ, তাঁদের স্বামীরা ভিনরাজ্যে দিনমজুরের কাজ করেন। অনেকেই নিজেরা দিনমজুরি বা বিড়ি বাঁধার কাজে যুক্ত। অন্য গ্রামে ভাতার অঙ্ক ১৫০০ টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে শুনলেও তাঁদের ক্ষেত্রে কেন টাকা আসছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এছাড়া প্রবীণদের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা বানু বেওয়া ও সাবিনা বেওয়া জানান, স্বামীহারা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়স হলেও তাঁরা এখনও বিধবা বা বার্ধক্য ভাতা পান না। বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো ফল হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরাতন খানপুর গ্রামটি মালতীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এলাকার বিধায়ক তথা মালদা জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সীর এলাকা এটি। চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে থাকলেও খানপুর অঞ্চলের পঞ্চায়েত সদস্য কংগ্রেসের রাজীব আলি। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ৩০০ জন মহিলা ও প্রবীণ নাগরিক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ ৩২ বিঘা জলাজমি বুজিয়ে ৪০০ ফ্ল্যাট? বেলগাছিয়ায় ‘বাংলার বাড়ি’ ঘিরে তুমুল বিতর্ক
অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, সরকারি সুবিধা রঙ দেখে দেওয়া হয় না। নথিগত ত্রুটির কারণেই সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি প্রশাসন খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে চাঁচলের মহকুমাশাসক ঋত্বিক হাজরা জানিয়েছেন, কারা সুবিধা পাচ্ছেন না তার একটি তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট বিডিওকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Government Scheme)।












