বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধাননগর (Bidhannagar) স্টেশন লাগোয়া বেলগাছিয়া মিল্ক কলোনি এলাকায় জলাজমি বুজিয়ে সরকারি আবাসন তৈরির অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বহু বছরের পুরনো প্রায় ৩২ বিঘার জলাভূমি ভরাট করে তৈরি করা হচ্ছে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের ১৬টি টাওয়ার, যেখানে প্রায় ৪০০টি সরকারি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই প্রকল্পে ৩৮৪টি ফ্ল্যাট তৈরির কথা উল্লেখ ছিল বলে জানান ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর প্রথম দিন থেকেই তাঁরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের কথায়, প্রতিদিন রাতের পর রাত মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে জলাশয়। তাঁদের আশঙ্কা, এত বড় জলাজমি বুজিয়ে ফেললে ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড বা অন্য বিপদের সময় এলাকায় মারাত্মক সমস্যা তৈরি হতে পারে। আনন্দপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন তাঁরা।
পরিবেশ আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্টে মামলা
এলাকাবাসীর একাংশ ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ আদালত National Green Tribunal-এ নালিশ জানিয়েছেন। সেই মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। একই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা হয়েছিল। তবে সেখানে রায় যায় পুরসভার পক্ষে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মামলাকারীরা এখন দ্বারস্থ হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)।
পুরসভার দাবি- এটা জলাভূমি নয়
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বলেন, জায়গাটি আগে রেলের ছিল। কৃত্রিমভাবে সেখানে নয়ানজুলি তৈরি হয়েছিল। বাকি অংশ স্থলভাগ। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুরসভার কাছে রয়েছে এবং এটি কোনও জলাজমি নয়। সেখানেই ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের কাজ চলছে। একই দাবি করেছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর ও বরো চেয়ারম্যানও। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবিকা চক্রবর্তী বলেন, জায়গাটি কর্পোরেশনের স্থলভাগ। জল সংরক্ষণ করে বাকি অংশে আবাসন তৈরি করা হচ্ছে।
গুগল আর্থ ও ইসরোর নথি দেখিয়ে পাল্টা দাবি
তবে বাসিন্দাদের একাংশ গুগল আর্থের পুরনো ছবি তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি, ২০১১ ও ২০১৪ সালের ছবিতে জায়গাটিকে ‘শালবনি পন্ড’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি ইসরোর নথিতেও এটিকে জলাশয় বলা আছে বলে দাবি তাঁদের। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)-এর ওয়েবসাইটেও ‘শালবনী ঝিল’ তালিকাভুক্ত পুকুরের মধ্যে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ রেশন-কাণ্ড পেরিয়ে ‘বালু’র প্রত্যাবর্তন জ্যোতিপ্রিয়র! তৃণমূলে বড় দায়িত্বে বালু
রবিবার প্রস্তাবিত আবাসনের গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিধাননগর (Bidhannagar) থানার পুলিশ আধিকারিকরা। পুরসভা একদিকে বলছে এটি জলাভূমি নয়, অন্যদিকে বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ জলাজমি বুজিয়ে তৈরি হচ্ছে সরকারি আবাসন। আইনি লড়াই এখন পৌঁছে গিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে। বিতর্কের জেরে বেলগাছিয়া মিল্ক কলোনি এলাকায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।












