‘আমাদের বাঁচান’, ভিডিওতে প্রাণভিক্ষা চাইছেন পাক সেনারা! ব্যাপারটা কী?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ধূ-ধূ মরুভূমির মধ্যে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা কয়েকজন সেনা সদস্য, মুখে আতঙ্কের ছাপ— এমনই একটি ভিডিও ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেনা পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তি পরিচয়পত্র দেখিয়ে সাহায্যের আবেদন করছেন এবং নিজেদের পাকিস্তান (Pakistan) সেনার সদস্য বলে দাবি করছেন। যদিও ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বাংলাহান্ট, তবুও বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

পাকিস্তানের (Pakistan) সেনাদের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শোরগোল

ভিডিওটি শেয়ার করেছে বালোচ বিদ্রোহীদের মিডিয়া শাখা ‘হাক্কাল’। তাদের দাবি, ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিরা পাকিস্তানের সেনা জওয়ান এবং তারা বিদ্রোহীদের হাতে বন্দী। এই দাবি করা হয়েছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র পক্ষ থেকে। ভিডিওতে বন্দী ব্যক্তিরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর কাছে উদ্ধার করার আবেদন জানাচ্ছেন এবং অভিযোগ করছেন যে তাঁদের নিজেদের কর্মী হিসেবে স্বীকার করা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:নিমেষের মধ্যে পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে! আপনার শহরের কত কাছে চলবে বুলেট ট্রেন? দেখুন তালিকা

ভিডিওতে এক বন্দী সেনা সদস্যকে বলতে শোনা যায়, তাঁর পরিচয়পত্র পাকিস্তানের তরফেই দেওয়া এবং তাঁরা যদি সেনার সদস্য না হন, তবে কেন তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর পরিবার তাঁর উপর নির্ভরশীল এবং বিশেষভাবে সক্ষম বাবার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। এই আবেগঘন আবেদন ভিডিওটিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা পাকিস্তান সেনাবাহিনী-র পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই বালোচ বিদ্রোহীদের সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান সেনা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন হেরফ ২.০’ নামে অভিযান শুরু করেছে। পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষের হতাহতের খবর সামনে এসেছে। বিএলএ-র দাবি, তাদের হাতে একাধিক পাকিস্তানি সেনা সদস্য বন্দী রয়েছেন এবং ভাইরাল ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিরাও সেই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

Outcry over viral video of Pakistan soldiers.

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’! বড় নির্দেশ দিয়ে কী জানাল আমেরিকার শীর্ষ আদালত?

বিএলএ পাকিস্তান সরকারকে সাত দিনের সময়সীমা দিয়ে জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের হাতে আটক বালোচ বিদ্রোহীদের মুক্তি না দিলে বন্দী সেনা সদস্যদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। যদিও এই দাবির সত্যতা ও ভিডিওর বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তথ্য যাচাই না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কারণ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের এ ধরনের ভিডিও প্রায়ই প্রচারযুদ্ধের অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।