পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেটে ১৮ শতাংশের বৃদ্ধি! তবুও, ভারতের তুলনায় কত কম?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামরিক দিক থেকে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ভারত। শুধু তাই নয়, সামগ্রিকভাবে ভারতীয় সেনার শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একের পর এক বড় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হচ্ছে। ঠিক এই আবহেই পড়েশি দেশ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেট (Pakistan Defence Budget) সম্পর্কিত তথ্য সামনে এসেছে। মূলত, পাকিস্তান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য তার প্রতিরক্ষা বাজেট ৩ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপিতে বৃদ্ধি করেছে। এটি গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি। সংসদে বাজেট পেশ করার সময় পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ এবং ভারতের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তবে, বাজেটে ব্যাপক বৃদ্ধি সত্ত্বেও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেট এখনও ভারতের তুলনায় প্রায় ৮ গুণ কম। রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান প্রতিরক্ষা খাতের জন্য ৩ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি, প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য আরও ১০.৯ বিলিয়ন রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জানিয়ে রাখি যে, এই বাজেট গত বছরের ২.৫৫ ট্রিলিয়ন রুপির চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এটি পাকিস্তানের মোট ফেডারেল বাজেটের প্রায় ১৬ শতাংশ। এদিকে, এই বাজেটটি দেশের জিডিপির প্রায় ২.০৮ শতাংশ বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বাজেট (Pakistan Defence Budget) গত বছরের চেয়ে বেশি:

সামরিক বাহিনী শক্তিশালী করার ওপর জোর: পাকিস্তান সরকারের মতে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সামরিক বাহিনী শক্তিশালী করা অপরিহার্য। তবে, অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের চাপের মধ্যে, এত বড় প্রতিরক্ষা ব্যয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি, এটি দেশটির জন্য সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত রয়েছে।

Pakistan defence budget increases by 18 percent.

ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট: জানিয়ে রাখি যে, ভারত ২০২৬-২৭ সালের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে প্রায় ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ডলারের হিসাবে, এর পরিমাণ প্রায় ৮৫ থেকে ৮৬ বিলিয়ন ডলার। এর মানে হল, ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট পাকিস্তানের চেয়ে প্রায় ৮ গুণ বেশি। ভারত মূলত আধুনিক অস্ত্র ক্রয়, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, মিসাইল এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, নৌ বাহিনীর সম্প্রসারণ সহ চিন ও পাকিস্তান উভয় দিকেই মনোযোগ দিয়েছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ভারতের শক্তিশালী অর্থনীতি প্রতিরক্ষা খাতে একে অধিকতর নমনীয়তা প্রদান করে।

আরও পড়ুন: কলকাতায় এসেই দীর্ঘ যন্ত্রণার অবসান! রোবোটিক অস্ত্রোপচারে বাংলাদেশি যুবককে সুস্থ করল ডিসান হসপিটাল

এক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রধান পার্থক্য: উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান বেতন ও অপারেশন ব্যয়ের ওপর বেশি নজর দিয়েছে। যেখানে আধুনিকীকরণের বিষয়টি সংকুচিত হয়েছে। এছাড়াও আর্থিক চাপ এবং বৈদেশিক ঋণ প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। অপরদিকে ভারত, আধুনিক অস্ত্র বিনিয়োগ করার পাশাপাশি আত্মনির্ভর ভারতের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়াও স্বদেশি মিসাইল এবং ফাইটার প্রোগ্রামে উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সামরিক প্রস্তুতির দিকে নজর দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভারত-জাপানের যুগলবন্দী ঝটকা দেবে চিনকে! দক্ষিণের এই রাজ্যে গড়ে উঠবে বিরল খনিজের সাম্রাজ্য

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি: মূলত, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দেশই এই বছর তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়েছে। তবে, সম্পদ ও প্রযুক্তির দিক থেকে ভারতের সুস্পষ্ট সুবিধা রয়েছে। অপরদিকে পাকিস্তান এখনও অর্থনৈতিক সঙ্কট ও সীমিত সম্পদ নিয়ে লড়াই করছে।