চাকরি নয়! অভিনব আইডিয়াকে কাজে লাগিয়েই করলেন বাজিমাত, ১ কোটির ব্যবসা গড়লেন পবিত্র

Published on:

Published on:

Pavitra Joshi's Success Story will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার বাসিন্দা পবিত্র যোশীর সাফল্যের গল্প (Success Story) আজ বহু তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক অফিসারের ছেলে পবিত্র ছোট থেকেই শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে বড় হয়েছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি দেশের অন্যতম নামী প্রতিষ্ঠান টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস-এ পড়াশোনা করেন। তবে নিরাপদ ও স্থায়ী চাকরির পথ বেছে না নিয়ে তিনি উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০২১ সালে ‘কুমাউনখন্ড’ নামে নিজের সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যা ভাং গাছ থেকে বিভিন্ন মূল্যবান পণ্য তৈরি করে ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

পবিত্র যোশীর অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

পবিত্র যোশীর শিক্ষাজীবনও ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। হায়দ্রাবাদের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক স্তরের পড়াশোনা এবং পরে দিল্লির রোহিণীর সেন্ট জেভিয়ার্সে স্কুলে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন তিনি। ২০১৭ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীন হংসরাজ কলেজ থেকে জুলজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথমে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও ধীরে ধীরে তাঁর আগ্রহ ব্যবসা ও সামাজিক উদ্যোগের দিকে ঘুরে যায়।২০১৮ সালে টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্স থেকে Entrepreneurship-এ মাস্টার ডিগ্রীর জন্য ভর্তি হন। স্নাতকোত্তর পড়াশোনার সময়ই তিনি একটি পাইলট প্রকল্পে কাজ শুরু করেন এবং সেখান থেকেই তৈরি হয় তাঁর ব্যবসায়িক মডেলের ভিত্তি।

আরও পড়ুন: ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’, প্রতিবাদের জেরে নাবালিকার সামনেই মাকে বিবস্ত্র করে মারধর? পটাশপুর কাণ্ডে ফুঁসে উঠলেন সুকান্ত

শুরুর দিকে খুব ছোট পরিসরে কাজ শুরু করেন পবিত্র। TISS-এর একটি প্রকল্প থেকে প্রাথমিকভাবে মাত্র ১৫ হাজার টাকার ফান্ডিং পেয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে ভাং গাছের বীজের তেল বাজারে আনার মাধ্যমে ব্যবসার প্রথম ধাপ শুরু হয় এবং তখন তিনি মাত্র ১৫ জন কৃষকের সঙ্গে কাজ করতেন। বর্তমানে তাঁর সংস্থা কুমায়ুন অঞ্চলের প্রায় ২,৫০০ কৃষকের সঙ্গে যুক্ত। মাল্টি-মাইক্রো হাব ও স্পোক মডেলের মাধ্যমে কৃষকদের গ্রেডিং ও বাছাইয়ের সুযোগ তৈরি করে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।

তবে এই পথ মোটেই সহজ ছিল না। উত্তরাখণ্ডে শিল্পজাতভাবে ভাং নীতি সেই সময় একেবারেই পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকায় নিয়ন্ত্রক জটিলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। গ্রামীণ মানুষের কাছে ব্যবসার ধারণা পৌঁছে দিতে ইংরেজি ব্যবসায়িক উপস্থাপনাকে পবিত্রকে হিন্দি ও কুমাওনি ভাষায় রূপান্তর করতে শিখতে হয়। ধীরে ধীরে তিনি বীজ তেল, ময়দা, চকোলেট, ত্বকের যত্নের পণ্য, দড়ি ও হাতে বোনা কাপড়সহ প্রায় ৩৫ ধরনের পণ্য তৈরি করে সংস্থাকে বিস্তৃত করেন।

Pavitra Joshi's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: বাঁচবে বাঘ-লেপার্ড! ভারতের প্রথম ‘ওয়াইল্ডলাইফ-সেফ’ রোড কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে গাড়ির গতি?

আর্থিক সাফল্যের ক্ষেত্রেও কুমাউনখন্ড খুবই দ্রুত এগিয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে সংস্থার আয় ছিল প্রায় ৪ লক্ষ টাকা, যা ২০২২-২৩- সালে তা বেড়ে ২৪ লক্ষ এবং ২০২৩-২৪- সালে তা ৩৮ লক্ষ টাকায় পৌঁছায়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আয় দাঁড়ায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা এবং মোট আয় ইতিমধ্যেই ১.১৬ কোটি টাকা অতিক্রম করে ফেলেছে। আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে পবিত্র যোশীর লক্ষ্য কুমাউনখন্ডকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করা এবং স্থানীয় কৃষকদের জন্য টেকসই আয়ের নতুন পথ তৈরি করা।