বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইরানের ওপর আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮২ ডলার অতিক্রম করেছে। সাধারণত, অপরিশোধিত তেলের দামের এত উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ভারতে পেট্রোল এবং ডিজেলের (Petrol-Diesel Price) দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে। তবে এবার, ভারতীয় গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। ভারত সরকার এবং সরকারি সেক্টরের তেল কোম্পানিগুলি কৌশলগত সংরক্ষণ এবং বিকল্প তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে এমন একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যার ফলে ভারতে দামের ওপর শীঘ্রই প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা খুব কম।
আপাতত পেট্রোল-ডিজেলের দাম (Petrol-Diesel Price) বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই:
জানিয়ে রাখি যে, ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে ভারতের প্রায় অর্ধেক অপরিশোধিত তেল পরিবহণ করা হয়। যদি এটি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমতাবস্থায় ভারতে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তবে, নিউজ ১৮-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ডেটা অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলারের মতে, এই সঙ্কট মোকাবেলা করার জন্য ভারতের কাছে পর্যাপ্ত ‘বাফার’ রয়েছে। কেপলারের ইনভেন্টরি ডেটা অনুসারে, ভারতে বর্তমানে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। যা যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দাম বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করবে।

৪৫ দিনের ব্যাকআপ প্রস্তুত: জানিয়ে রাখি যে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, ভারত দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল সংরক্ষণের জন্য বৃহৎ ভূগর্ভস্থ গুহা তৈরি করেছে। কেপলারের সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট নিখিল দুবে জানিয়েছেন যে, ভারত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করে। সরবরাহ ব্যাহত হলে ভারতের সম্মিলিত তেলের মজুত প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিনের জন্য দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারে।’ জানিয়ে রাখি যে, বর্তমানে ভারতের ৫.৩ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেলের কৌশলগত সংরক্ষণ ক্ষমতা রয়েছে। যা বিশাখাপত্তনম (১.৩৩ এমএমটি), ম্যাঙ্গালুরু (১.৫ এমএমটি) এবং পাদুরের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে (SPR) (২.৫ MMT) সংরক্ষণ করা হয়। এদিকে, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সম্প্রতি রাজ্যসভায় আশ্বস্ত করেছিলেন যে, কোনও বড় ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কার ক্ষেত্রে, দেশের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত ৭৪ দিনের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: ফের রোহিত-বিরাটের যুগলবন্দী! এই দলের বিরুদ্ধে প্রথম ODI সিরিজ খেলবে ভারত, দিনক্ষণ জানাল BCCI
ভারতের তেল শোধনাগারগুলি কাজ চালিয়ে যাবে: কেপলারের রিফাইনিং ও মডেলিংয়ের লিড রিসার্চ অ্যানালিস্ট সুমিত রিটোলিয়া জানিয়েছেন যে, স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (SPR), বাণিজ্যিক মজুত এবং রাশিয়া থেকে বিকল্প সরবরাহের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ভারসাম্যপূর্ণ করা যেতে পারে। এর অর্থ হল, উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে তেল সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটলেও, ভারতের শোধনাগারগুলি বন্ধ হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সঙ্কটের সময়ে রাশিয়া আবারও ভারতের জন্য একটি বড় সমর্থন হবে। নিখিল দুবে জানিয়েছেন যে, ভারতীয় শোধনাগারগুলি রাশিয়ান তেল দ্রুত কিনতে পারে। যেহেতু রাশিয়ার তেল রুটগুলি হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল নয়, তাই সেখান থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা ভারতের অগ্রাধিকার হবে।
আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ার কোচ হতে চলেছেন জাহির খান? প্রস্তুতি শুরু করল BCCI
বাজার বিশ্লেষকরা আরও যুক্তি দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির বোঝা সরাসরি জনগণের পকেটে না পড়ার জন্য সরকার তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ‘ক্রাইট স্টেবিলাইজেশন’ ফান্ড বা আবগারি শুল্ক হ্রাসের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।












