ফের টান পড়বে পকেটে! আরও বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম, জানুন নতুন রেট

Published on:

Published on:

Petrol-Diesel prices rise further, check the new rates.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে চতুর্থবার দাম বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের (Petrol-Diesel Prices)। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেশের জ্বালানি বাজারে ফের বড় ধাক্কা খেল সাধারণ মানুষ। সোমবার নতুন করে দাম বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে তেল সংস্থাগুলি। কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রলের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ২ টাকা ৮০ পয়সা। ফলে মহানগরে বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম দাঁড়িয়েছে ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম হয়েছে ৯৯ টাকা ৮২ পয়সা। একের পর এক মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা থেকে পরিবহণ ব্যবসায়ীরা।

আরও বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম (Petrol-Diesel Prices), জানুন নতুন রেট:

শুধু কলকাতাই নয়, দেশের অন্যান্য মহানগরেও একই ছবি। দিল্লিতে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা ৬১ পয়সা বেড়ে হয়েছে ১০২ টাকা ১২ পয়সা। ডিজেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ টাকা ২০ পয়সা। মুম্বইয়ে পেট্রলের নতুন দাম হয়েছে ১১১ টাকা ২১ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯৭ টাকা ৮৩ পয়সা। চেন্নাইতেও জ্বালানির দামে বড়সড় বৃদ্ধি হয়েছে। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৭ টাকা ৭৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৯ টাকা ৫৫ পয়সা। গত ১০ দিনে মোট মিলিয়ে প্রায় ৭ টাকারও বেশি দাম বেড়েছে জ্বালানি তেলের। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মাসিক খরচে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরিষেবায় কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে রাজ্য, ১ জুন থেকে নতুন পরিচয়পত্র নিয়ম চালু

জ্বালানি তেলের (Petrol-Diesel Prices) লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির জেরে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবহণ ক্ষেত্রেও। বাস মালিক সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ডিজেলের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকলে পুরনো ভাড়ায় বাস চালানো সম্ভব নয়। পরিবহণ খরচ বাড়লে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ইতিমধ্যেই দুধ, রুটি, সবজি-সহ একাধিক খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাক পরিবহণ খরচ বাড়ার ফলে আগামী দিনে বাজারে আরও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তেল সংস্থাগুলির দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়াতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অনেকটাই বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তেল বিপণন সংস্থাগুলি কেন্দ্রের উপর চাপ তৈরি করছিল দাম বৃদ্ধির জন্য। ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পরই ধাপে ধাপে সেই দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে সরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু গাড়ির খরচ বাড়ায় না, গোটা অর্থনীতির উপর তার বড় প্রভাব পড়ে। কারণ পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে খাদ্য, নির্মাণ, কৃষি ও শিল্পক্ষেত্র। ডিজেলের দাম বাড়লে কৃষিক্ষেত্রেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়তে পারে। সাধারণ মানুষের হাতে সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই শহর ও শহরতলির বহু মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানোর কথা ভাবছেন। অনেকেই গণপরিবহণের উপর নির্ভরতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

Petrol-Diesel prices rise further, check the new rates.

আরও পড়ুন:১ জুন থেকে ৩০০০ টাকা করে বেকারভাতা, আবার নতুন করে করতে হবে আবেদন? জানাল রাজ্য সরকার

তবে বিরোধীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিকে অজুহাত করে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ চাপানো হচ্ছে। কেন্দ্রের উচিত ছিল কর কমিয়ে মানুষের স্বস্তির ব্যবস্থা করা। যদিও সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণে আপাতত মূল্যবৃদ্ধি এড়ানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। কিন্তু একের পর এক জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে আপাতত স্বস্তির কোনও ইঙ্গিত মিলছে না। ফলে আগামী দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে (Petrol-Diesel Prices)।