বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) ঘিরে প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভোটকর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ভোটের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি, তার মধ্যেই বিভিন্ন জেলায় হঠাৎ করে বুথের ডিউটি পরিবর্তনের অভিযোগ উঠছে, যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা।
নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) ভোটকর্মীদের ডিউটি বদল:
রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আর মাত্র সাতদিন বাকি। এমনকি দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৪২ টি কেন্দ্রে। ইতিমধ্যেই, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারটা দু’দফার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের ডিউটি পরিবর্তন সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়ে এবার সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল। বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা এই ডিউটি বদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “এটি কমিশনের একটি ‘লজিকাল ডিসক্রিপেনসি’ ছাড়া আর কিছু নয়।”
যে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকারা এই ডিউটি বদলের শিকার, তাঁরা প্রশ্ন করেছেন, দুদিন ধরে প্রেসারেটিং অফিসার ফাস্ট বোলিং অফিসারের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হল তখন ভোটের আগে সেই দায়িত্ব কেন বদলে দেওয়া হচ্ছে। কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন করছেন নাকি কমিশনের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দিচ্ছে। এর পিছনে ঠিক কোন কারণ রয়েছে তা জানতে চান তাঁরা। কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে লিখেছেন, এবারে কি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর মাধ্যমে ভোটের ডিউটি ভাগ করা হচ্ছে ।
ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শিক্ষকের কথায়, “প্রথম দু’টি ট্রেনিংয়ে ফার্স্ট পোলিং অফিসারের ট্রেনিং নিয়েছি। ১৫ এপ্রিল গ্রুপ ট্রেনিংয়ের কথা ছিল। তার আগেই সোমবার আমার ও স্কুলের টিচার–ইন–চার্জকে ফার্স্ট পোলিং অফিসারের বদলে সেকেন্ড পোলিং অফিসারের ডিউটি দেওয়া হয়েছে।”
অভিযোগ উঠছে ফাস্ট পোলিং অফিসারদের ও প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এক শিক্ষিকা এই প্রসঙ্গে সমাজমাধ্যমে সরব হয়ে লিখেছেন, “নির্বাচন উপলক্ষে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দু’বার ট্রেনিং নিলাম। আর ডিউটি এল বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকল্প ভোটগ্রহণের।” এমনকি অনেক কেন্দ্রেই সঠিকভাবে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন : ক্যাম্পের ভিতরে আগুন, রক্ষা পেলেন না জওয়ান! নিরাপত্তা ঘিরে বড় প্রশ্ন
তবে এই পুরো বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগীর বক্তব্য, “ফার্স্ট ও সেকেন্ড পোলিং অফিসারের প্রশিক্ষণ একই রকম। আর ফার্স্ট ও সেকেন্ড পোলিং অফিসারের পাশাপাশি প্রিসাইডিং অফিসারকে একই ট্রেনিং মেটিরিয়াল দেওয়া হয়। তাই প্রশ্ন বা বিতর্কের কিছু নেই।” ভোটের আগে এমন বিভ্রান্তি, ভোট পরিচালনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকেই। এখন দেখার, কমিশন এই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না।












