বাংলাহান্ট ডেস্ক: ডিসেম্বরেই একসঙ্গে আমেরিকা (America) ও কানাডা সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সূত্রের খবর, আগামী ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার ডোরালে বসতে চলা জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আমেরিকা যেতে পারেন তিনি। এবারের সম্মেলনের আয়োজক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। যদিও এখনও পর্যন্ত নয়াদিল্লির তরফে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুতি চলছে বলে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
শুল্কযুদ্ধের আবহে ডিসেম্বরেই ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির (Narendra Modi) দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা:
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi) জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে আমেরিকা গেলে, সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়েও ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির মতপার্থক্য রয়েছে। সম্প্রতি ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’-এ সই করেছেন ট্রাম্প। এই আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। তবে এই শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারতের উপর বসে যায়নি; তা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রশাসনের হাতে রয়েছে।
আরও পড়ুন: গাফিলতি প্রমাণিত হলে বেতন থেকেই কাটা হবে টাকা! কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করল স্বাস্থ্য ভবন
এই পরিস্থিতিতে জি-২০-র ফাঁকে সম্ভাব্য মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের মতো বিষয় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারতীয় শোধনাগারগুলিও রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে তেল কেনার দিকে এগিয়েছে। অগস্টে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি কমে গেলেও মস্কো এখনও দেশের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী। ফলে ওয়াশিংটনের নতুন শুল্ক-ক্ষমতা এবং ভারতের জ্বালানি চাহিদা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই নয়াদিল্লির কাছে বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে।
শুধু আমেরিকাই নয়, ডিসেম্বরের সময়েই কানাডা সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, ওই সময়ের কাছাকাছি মোদির কানাডা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে এবং তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য তিনি আগ্রহী। ভারত ও কানাডার মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন করে গতি দিতে কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা CEPA নিয়ে আলোচনা চলছে। কার্নির কথাতেও সেই আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে।

আরও পড়ুন: ফুলকপির ডাঁটি আর ফেলবেন না! সঞ্জীব কপূর শেখালেন সুস্বাদু পদ বানানোর কৌশল
সব মিলিয়ে ডিসেম্বরের সম্ভাব্য সফর একাধিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। একদিকে ফ্লোরিডায় জি-২০-র মঞ্চে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ, অন্যদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির (Narendra Modi) সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। তার পর কানাডা সফর হলে বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও আলোচনা এগোতে পারে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর সফরের চূড়ান্ত সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি, তবু ডিসেম্বরের কূটনৈতিক ক্যালেন্ডারে ভারত-আমেরিকা এবং ভারত-কানাডা সম্পর্কের দিকে যে বিশেষ নজর থাকবে, তা বলাই যায়।













