বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। সোমবার ফল বেরোতেই রাত পোহানোর আগেই একের পর এক অশান্তির অভিযোগ সামনে আসে। কোথাও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, কোথাও কর্মীদের উপর আক্রমণ। সব মিলিয়ে রাজ্য জুড়ে অশান্তির ছবি স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) কড়া বার্তা দিয়েছে, কোনওভাবেই হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে করা বার্তা কমিশনের (Election Commission)
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণ থেকে উত্তর, রাজ্যের একাধিক জায়গা অশান্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভাঙড়, বারুইপুর, হাওড়া, নানুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় ‘সন্ত্রাস’-এর অভিযোগ তুলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। যদিও বিজেপি এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধরের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অন্যদিকে তৃণমূল দাবি করেছে, ভাঙড়ে আইএসএফের জয়ের পর তাদের কর্মীরাও বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে। নিমকুড়িয়া গ্রামে পতাকা না খোলাকে কেন্দ্র করে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে বেঁওতায় এক তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগও সামনে এসেছে।
এদিকে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃত যাদব বর (৪৮) বিজেপির জয়ের আনন্দে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। অভিযোগ, সেই রাতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে মারধর করে খুন করে। ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে বীরভূমের নানুরে এক তৃণমূল কর্মীর খুনের অভিযোগ উঠেছে। মৃত আবির শেখকে একা পেয়ে বিজেপি কর্মীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে বলে পরিবারের দাবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং দখল নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বারুইপুর, কৃষ্ণনগর, বর্ধমান-সহ একাধিক এলাকায় একই ছবি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও আগুন লাগানোর ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও বিজেপি সব অভিযোগই নস্যাৎ করেছে।
শিলিগুড়িতেও অশান্তির ছবি সামনে এসেছে। মেয়র গৌতম দেবের ওয়ার্ডে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। টেবিল-চেয়ার ভেঙে দেওয়া হয়, দলীয় পতাকাও খুলে ফেলা হয় বলে দাবি। তবে বিজেপি এই অভিযোগ মানতে নারাজ।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যজুড়ে শতাধিক পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে, বহু কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, জয়ের আনন্দে যেন কেউ কোনওরকম হিংসার পথে না যায়।

আরও পড়ুনঃ পালাবদলের পরই সতর্ক পদক্ষেপ! রাজ্যের মামলায় রায় স্থগিত রাখার আর্জি হাই কোর্টে
ক্রমশ বাড়তে থাকা অশান্তির মধ্যে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) কড়া অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যসচিব, ডিজি এবং সিআরপিএফ-কে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেখানে অশান্তি হবে, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনওভাবেই কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।












