বাংলা হান্ট ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য ভারতের (India)। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিমানবাহী রণতরী INS বিক্রান্তের (INS Vikrant) ডেকে প্রথম প্রচেষ্টাতেই সফলভাবে অবতরণ করল ফ্রান্সের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান রাফাল মেরিন (Rafale Marine)। ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর এই পরীক্ষা সফল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীতে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতদিন স্থলভিত্তিক বিমানঘাঁটিতে রাফালের শক্তি দেখেছে ভারত। এবার সমুদ্রের বুকেও যুদ্ধবিমানটির কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের পথে এগোল নৌবাহিনী। INS বিক্রান্ত এবং রাফাল মেরিনের এই যুগলবন্দি আগামী দিনে ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রথম প্রচেষ্টাতেই INS Vikrant-এর ডেকে সফল অবতরণ রাফালের:
তবে বিমানবাহী রণতরীতে যুদ্ধবিমানের ওঠানামা মোটেই সহজ কাজ নয়। বিশেষ করে ভারতীয় নৌবাহিনীর INS বিক্রান্ত (INS Vikrant) ও INS বিক্রমাদিত্যের মতো রণতরীতে যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য রয়েছে বিশেষ প্রযুক্তি। এই ব্যবস্থায় বিমানের সামনের দিকের ঢালু অংশ বা স্কি-জাম্প ব্যবহার করে বিমান আকাশে উড়ে যায়। অন্যদিকে, অবতরণের সময় বিমানের পিছনে থাকা বিশেষ হুক রণতরীর ডেকে পাতা শক্তিশালী তারে আটকে যায়। এর ফলে অত্যন্ত কম দূরত্বের মধ্যেই কয়েক টন ওজনের যুদ্ধবিমানকে থামানো সম্ভব হয়। কিন্তু রাফাল মেরিন মূলত ফ্রান্সের বিমানবাহী রণতরীতে ক্যাটাপাল্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে উড়ান এবং অবতরণের উপযোগী করে তৈরি। তাই ভারতের স্কি-জাম্প ও অ্যারেস্টর-ওয়্যার ব্যবস্থার সঙ্গে বিমানটির সামঞ্জস্য যাচাই করা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম প্রচেষ্টাতেই সফল অবতরণ সেই পরীক্ষায় বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকদের জন্য বড় খবর! দুবাই থেকে সিঙ্গাপুর; সর্বত্র UPI দিয়েই হবে পেমেন্ট
উল্লেখ্য, ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীর শক্তি বাড়াতে ফ্রান্সের কাছ থেকে মোট ২৬টি রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছে ভারত। ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৩ হাজার কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, ২২টি এক আসনবিশিষ্ট যুদ্ধবিমান এবং চারটি দুই আসনবিশিষ্ট প্রশিক্ষণ বিমান কেনার কথা রয়েছে। শুধু যুদ্ধবিমান সরবরাহই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত থাকছে পাইলটদের প্রশিক্ষণ, সিমুলেটর, অস্ত্রশস্ত্র এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সমস্ত বিমান সরবরাহ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। ফলে এই যুদ্ধবিমানগুলি নৌবাহিনীতে যুক্ত হলে ভারতের বিমানবাহী রণতরীগুলির যুদ্ধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি রাফাল মেরিনকে বহুমুখী যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আকাশপথে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমানের মোকাবিলা, সমুদ্রে শত্রুর যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানা, নজরদারি চালানো এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম এই বিমান। এতে রয়েছে অত্যাধুনিক AESA র্যাডার এবং SPECTRA ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা। পাশাপাশি Meteor ও MICA-র মতো আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং SCALP-এর মতো দূরপাল্লার আঘাত হানার অস্ত্র বহনের ক্ষমতাও রয়েছে। ফলে শত্রুপক্ষের গতিবিধির উপর নজরদারি থেকে শুরু করে আকাশ ও সমুদ্রে আক্রমণাত্মক অভিযান—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই রাফাল মেরিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌবাহিনীর অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে এই যুদ্ধবিমান কার্যকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে, INS বিক্রান্তের (INS Vikrant) ডেকে রাফাল মেরিনের প্রথম প্রচেষ্টাতেই সফল অবতরণ ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় অগ্রগতি। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গে অত্যাধুনিক বিদেশি যুদ্ধবিমানের এই সমন্বয় নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে একটি সফল অবতরণ মানেই রাফাল মেরিন সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীর ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত, এমনটা নয়। বিমানটির কার্যক্ষমতা, প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্য এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিরাপদে ওঠানামার বিষয়গুলি নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা ও যাচাই প্রয়োজন। সেই সমস্ত ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে সমুদ্রপথে আকাশযুদ্ধ পরিচালনার আরও শক্তিশালী হাতিয়ার চলে আসবে।












