বাংলা হান্ট ডেস্ক : আইনের পেশা আর রাজনৈতিক মতাদর্শকে একসঙ্গে মেলানো উচিত নয় — এই অবস্থানেই অনড় প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য(Bikash Ranjan Bhattacharya)। তাঁর বক্তব্য, আদালতে কোনও ব্যক্তি আইনি সহায়তা চাইলে সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। সেই কারণেই নীতিগত বিরোধ না থাকলে যে কারও হয়ে আদালতে দাঁড়াতে তিনি প্রস্তুত।
কী বললেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)?
বিকাশরঞ্জন জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেও সওয়াল করতে দ্বিধা করবেন না। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিকাশরঞ্জন বলেন, বামপন্থীদের মূল দর্শনই হল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে পেশায় আমি আছি সেখানে নীতিগত সংঘর্ষ না থাকলে বিচার দেওয়া আমার দায়িত্ব। যখন মমতার কেউ থাকবে না, তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য আমি থাকব। বামপন্থীদের নীতি মানুষের সব সময় পাশে থাকা। সে অপরাধী হলে তার অপরাধ বিচার হবে, সাজা হবে। কিন্তু একজন মানুষ আইনের সাহায্য চাইতে এলেন আর আমি বামপন্থী আইনের সাহায্য দেব না। এমন হবে না।” এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামীর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। আর সেই ঘটনাতেই সিপিএমের একাংশের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তাঁরা খানিকটা অবুঝ। তাঁদের মধ্যে যুক্তি বোধ কাজ করে না। তিনি তৃণমূলের নেতা হতে পারেন। তাঁর মধ্যে যুক্তিবোধ কাজ করে না। এই মামলায় মামলাকারী কাউকে খুন করেছেন, অভিযোগ লোপাট করেছেন এমনটা নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিজেপির এমএলএ অভিযোগ করেছেন মামলাকারী আয় বহির্ভূত সম্পত্তি করেছেন। ফলে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি করায় ক্রিমিন্যাল অফেন্স হয় না। সেটা নিয়ে সওয়াল হয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন, কোনও মামলার চরিত্র বিচার না করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিরোধিতা করা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “উনি যদি এলাকার সিপিএম কর্মীদের মারধর করেছেন বা খুন করেছেন, আর তার হয়ে আমি সওয়াল করছি সেটা নিয়ে মামলা করলে হত। এখন যদি প্রমাণিত হয় আয় বহির্ভূত সম্পত্তি রয়েছে তার জন্য IT আছে, সিবিআই আছে…। এটা সুক্ষ বোধ। এটাতে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা প্রকাশ পায়।”

আরও পড়ুন : মাসে মাসে রাজ্যের মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা পাঠাবে সরকার, কীভাবে মিলবে সুবিধা?
তবে দুর্নীতির প্রশ্নে তৃণমূল নেতৃত্বকে আক্রমণ করতেও পিছপা হননি তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বিকাশরঞ্জন বলেন, “অভিষেক-মমতা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। এরা বিজেপির নেতৃত্বে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে দুর্নীতি করেছে। এরা তো চুনোপুঁটি। ইতিপূর্বেই আমি মুকুল রায়ের হয়ে মামলা লড়েছি। উনি তো তৃণমূল থেকে বিজেপি হয়েছিলেন, বিজেপি থেকে তৃণমূল হন। সব্যসাচী দত্তের হয়ে মামলা করেছি। ওরা রাজনৈতিক ভাবে জামা পালটাতে পারে, কিন্তু আমার যে পেশাগত আদর্শ হল, যে আসবেন, তাদের সঙ্গে যদি দর্শনগত ভাবে বিরোধ না হয়, তাহলে আমি মামলা লড়ব।” প্রসঙ্গত, অতীতেও একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হয়ে আদালতে লড়েছেন বিকাশ ভট্টাচার্য। তবে বর্তমান রাজনৈতিক আবহে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বাম শিবিরের অন্দরেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।













