Durga Puja 2026 Live Updates

অধিকাংশ এলাকাই নিয়ন্ত্রণে! পাকিস্তানের উদ্বেগ বাড়িয়ে বালোচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা বিদ্রোহীদের

Published on:

Published on:

Rebels declare Balochistan an independent state.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বালোচিস্তানকে (Balochistan) ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি লিখিত বিবৃতিতে বালোচিস্তানকে ‘রিপাবলিক অফ বালোচিস্তান’ নামে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার দাবি করা হয়েছে। যদিও বিবৃতিতে কোনও সংগঠনের নাম উল্লেখ নেই, তবু বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, এটি বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)-র তরফ থেকেই প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘোষণাকে পাকিস্তান (Pakistan) সরকার, রাষ্ট্রসংঘ বা বিশ্বের কোনও দেশ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে এই ঘোষণার সত্যতা এবং বাস্তব অবস্থান এখনও আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবুও এই বিবৃতি ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

পাকিস্তানের উদ্বেগ বাড়িয়ে বালোচিস্তানকে (Balochistan) স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা বিদ্রোহীদের:

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘর্ষের পর বালোচিস্তানের (Balochistan) প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে ‘বালোচ ফালুস’ নামে নিজস্ব মুদ্রা, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, সোনা, তামা, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এখন স্থানীয় জনগণের হাতে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রায় পাঁচ লক্ষ সদস্য নিয়ে একটি প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে সেনা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং প্রশাসনিক কর্মীরা যুক্ত রয়েছেন। বিদ্রোহীদের দাবি, ২০২৬ সালের মধ্যেই বাকি এলাকাগুলি থেকেও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে সরিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বালোচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: শতাব্দী এক্সপ্রেসের খাবারে বাসি পাউরুটি! IRCTC-র কাছে অভিযোগ আসতেই ১ লক্ষের জরিমানা

বালোচিস্তানের আন্দোলন অবশ্য নতুন নয়। কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র এবং রাজনৈতিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিভিন্ন বালোচ সংগঠন। তাদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বালোচিস্তানের মানুষ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই বঞ্চিত। বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) প্রকল্প চালু হওয়ার পর এই অঞ্চলে সেনা উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়। বিদ্রোহীদের অভিযোগ, এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার হলেও তার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের দাবি, উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি হিংসার পথ বেছে নিয়েছে। ইসলামাবাদ বরাবরই BLA-কে একটি নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে এসেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ বহুবার অভিযোগ করেছে, বালোচিস্তানে জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। যদিও পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগের অনেকটাই অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে বালোচ সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিক, নিরাপত্তা বাহিনী এবং চিনা নাগরিকদের উপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। ফলে বালোচিস্তান ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই জটিল নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংকটে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাধীনতার দাবি সামনে আসায় নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের নজর পড়েছে এই অঞ্চলের দিকে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থা বিদ্রোহীদের দাবি করা ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ বা স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত করেনি।

Rebels declare Balochistan an independent state.

 

আরও পড়ুন: শুধু ভারতেই নয়! বিশ্বের একাধিক দেশে ব্যবহৃত হয় ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল, তালিকায় রয়েছে বড় চমক

বিশেষজ্ঞদের মতে, বালোচিস্তানের (Balochistan) ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর। স্বাধীনতার দাবি যতই জোরালো হোক না কেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছাড়া কোনও ভূখণ্ড কার্যত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। বর্তমানে পাকিস্তান সরকার এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানালেও দেশের অখণ্ডতা রক্ষার অবস্থানেই অনড় রয়েছে। অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি তাদের আন্দোলন আরও জোরদার করার বার্তা দিচ্ছে। ফলে বালোচিস্তানকে ঘিরে যে সংঘাত বহু বছর ধরে চলেছে, তা আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।