Blinkit-Swiggy-র বাড়ল চিন্তা! এখনও কেউ যা করতে পারেনি কুইক কমার্সে সেটাই করে দেখালেন আম্বানি

Published on:

Published on:

Reliance Industries is benefiting from Quick Commerce.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রায় প্রতিটি জিনিসই অনলাইন থেকে কেনাকাটার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, ডেলিভারি প্রদানকারী অ্যাপগুলির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যাচ্ছে হাতের কাছে। কিন্তু, আপনি কী কখনও ভেবে দেখেছেন কুইক কমার্সের সঙ্গে যুক্ত থাকা কোম্পানিগুলি কীভাবে অর্থ উপার্জন করে? আসলে, কুইক কমার্সের বাজারে লাভবান হওয়া নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই আবহে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries) এমন একটি দাবি করেছে যেটি ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রিলায়েন্স স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তাদের কুইক কমার্স এবং FMCG ব্যবসাগুলি এখন অর্থ উপার্জন করছে। ইকোনমিক্স টাইমসের রিপোর্ট অনুসারে, সংস্থাটি জানিয়েছে, যে তাদের কুইক কমার্স বিজনেস এখন প্রতিটি অর্ডারে লাভ করছে। যাকে ব্যবসায়িক ভাষায় ‘কন্ট্রিবিউশন মার্জিন পজিটিভ’ বলা হয়।

লাভবান হচ্ছে রিলায়েন্স (Reliance Industries):

জানিয়ে রাখি যে, রিলায়েন্স ২০২৪ সালের অক্টোবরে তার কুইক কমার্স ব্যবসা শুরু করে। এত অল্প সময়ের মধ্যে, কোম্পানিটি এমন কিছু অর্জন করেছে যা অন্যান্য কোম্পানিগুলি বছরের পর বছর ধরে অর্জনের জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করেছে। কোম্পানির উচ্চ আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, তাদের ৩ বছর ধরে চালু থাকা FMCG ব্যবসাও এখন লাভজনক হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ EBITDA পজিটিভ রয়েছে।

Reliance Industries is benefiting from Quick Commerce.

ইতিমধ্যেই রিলায়েন্স রিটেইলের CFOদীনেশ তালুজা এর নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। উল্লেখ্য যে, রিলায়েন্স ভারতের গ্রসারি সেক্টরের অন্যতম বড় খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই, তারা FMCG কোম্পানিগুলি থেকে সবচেয়ে বেশি পণ্য সংগ্রহ করে। যখন গ্রাহকরা পরিমাণে বাল্ক অর্ডার দেন, তখন সস্তা দামে পণ্য পাওয়া যায়। রিলায়েন্স কুইক কমার্সে এই ‘সোর্সিং পাওয়ার’ ব্যবহার করছে. যার ফলে তাদের লাভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে মন্দার আবহেই এগিয়ে চলেছে দেশ! ভারতীয় অর্থনীতিতে ভরসা রেখে গ্রোথ রেট বৃদ্ধি IMF-এর

খাদ্য ও পানীয় থেকে মিলছে বড় লাভ: রিলায়েন্সের সাফল্যের আরেকটি বড় কারণ হল গ্রাহকদের পছন্দ সম্পর্কে তাদের বোধগম্যতা। তালুজা ব্যাখ্যা করেছেন যে খাদ্য ও পানীয় (F&B) বিভাগে সর্বোচ্চ মার্জিন রয়েছে। রিলায়েন্সের কুইক কমার্সে প্রাপ্ত প্রতি ৩ টি অর্ডারের মধ্যে একটি এই বিভাগের। সাধারণত ভূষিমাল দোকানগুলিতে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ অপচয় হয়, যা লাভ কমিয়ে দেয়। তবে, রিলায়েন্স তার সাপ্লাই চেন ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে এই অপচয় নিয়ন্ত্রণ করেছে। এই কারণেই তারা গ্রাহকদের অনুকূল দাম প্রদান করতে সক্ষম হচ্ছে এবং যথেষ্ট মুনাফাও অর্জন করছে। এছাড়াও, কোম্পানিটি এখন কেবল গ্রসারির জিনিসপত্রই নয় বরং, ইলেকট্রনিক্স এবং ফ্যাশন প্রোডাক্টও সরবরাহ করে। যার ফলে আয়ের প্রবাহ আরও অনেকটাই প্রসারিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ার পরাজয়ের জন্য দায়ী কে? রাখঢাক না রেখে বড় প্রতিক্রিয়া সুনীল গাভাস্কারের

রিলায়েন্সের অবস্থান: জানিয়ে রাখি যে, রিলায়েন্সের কুইক কমার্সের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ৩,০০০ আউটলেট রয়েছে। যার মধ্যে ৮০০টি ডার্ক স্টোর (শুধুমাত্র ডেলিভারির জন্য) রয়েছে। কোম্পানিটি বলছে যে, তারা তাদের বর্তমান স্টোর নেটওয়ার্ককে কাজে লাগাচ্ছে। যা খরচ কমিয়ে আনছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে, রিলায়েন্স প্রতিদিন ১৬ লক্ষ অর্ডার পাচ্ছিল। অর্ডারের সংখ্যার নিরিখে ত্রৈমাসিকের ভিত্তিতে এটি ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এইভাবেই কোম্পানিটি ভারতের বৃহত্তম কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। বর্তমানে, এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় নাম হল ব্লিঙ্কিট এবং সুইগি। যদিও, এখনও সামগ্রিকভাবে লোকসানে কাজ করছে এই সংস্থাগুলি। ব্লিঙ্কিট কিছু শহরে লাভ করছে। তবে নতুন শহরে সম্প্রসারণের কারণে সংস্থাটির ব্যয় বেড়েছে। অপরদিকে, সুইগির লোকসানও কমেছে। কিন্তু তারা এখনও পুরোপুরি লাভ করতে পারেনি।