বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ, খুনের ঘটনার (RG Kar Case) পর দেড় বছর কেটে গিয়েছে। তবে এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। এই নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। এই মামলার তদন্তে সিবিআই গা ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে এমনই মন্তব্য করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি শম্পা সরকারও।
আরজি কর মামলায় আর কি বলল হাইকোর্ট? | (RG Kar Case)
এদিন উচ্চ আদালতে আরজি কর মামলার রিপোর্ট জমা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মতো ৩ সদস্যের সিট গঠিত হয়েছে। যদিও বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, সিবিআই আদালতের নির্দেশ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ফের নতুন আপডেট! আবেদন করে থাকলে অবশ্যই জানুন
এদিন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়েছে। দুই বিচারপতিই এই মামলার তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সিবিআই রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর বিচারপতি সরকার জিজ্ঞেস করেন, “সিবিআই তদন্তে হস্তান্তরে দেরি। তথ্য প্রমাণ নষ্ট করার জন্য কারা দায়ী? এটাও তো একটা অপরাধ”।
বিচারপতি জানতে চান, নির্যাতিতার পরিবারের কী অভিযোগ রয়েছে? অপরাধীদের কেউ আড়াল করার চেষ্টা করছে কিনা সেটাও তদন্তকারী সংস্থাকে খুঁজে বের করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পাল্টা সিবিআই জানায়, একাধিকবার সব বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের সব বক্তব্য শুনে উত্তর দেওয়া হয়েছে। একথা শুনে বিচারপতি সরকার জিজ্ঞেস করেন, মায়ের বক্তব্য কোথায়? উত্তরে সিবিআই জানায়, বক্তব্য লিখে রাখা হয়েছে। এরপরেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি ঘোষ।
তিনি দাবি করেন, আরজি কর মামলার তদন্তে সিবিআই গা ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে। চার্জশিট দাখিল করার পর ১ বছর ৭ মাস অতিক্রান্ত। তদন্ত কবে শেষ হবে? এই মামলা তাহলে সিবিআইয়ের থেকে নিয়ে নিচ্ছি? নির্দেশে লেখা হবে, সিবিআই আধিকারিকরা হাইকোর্টেরও ঊর্ধ্বে। তাঁরা উপযুক্ত তদন্ত করতে, আদালতের নির্দেশ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এরপর আদালতের আগের নির্দেশ ব্যাখ্যা করে বিচারপতি সরকার বলেন, ওই নির্দেশের অর্থই ছিল আগের তদন্তকারী আধিকারিকদের এই মামলা থেকে সরিয়ে নবনির্মিত সিট-কে তদন্তভার দেওয়া। আপনারা এটাই বুঝতে পারছেন না?
অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবার আবার সিআইডি-র হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার কথা জানায়। তাঁরা বলেন, “সিবিআই না পারলে সিআইডি-র হাতে মামলা তুলে দেওয়া হোক”। যদিও আপাতত সিবিআই তদন্তে আস্থা রেখেছে উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে নির্দেশ, নতুন সিটে পুরনো কোনও তদন্তকারী আধিকারিক থাকবেন না। আগামী ৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালে এক চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ, খুন হয়। এরপর দেড় বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত। তবে এখনও এই ঘটনার তদন্ত শেষ হয়নি। এবার এই মামলার শুনানিতেই সিবিআই তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল হাইকোর্ট।













