বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অভিনয়ের পাশাপাশি এখন রাজনীতিতেও নিজের বেশ পাকাপোক্ত জায়গা তৈরী করে নিয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। এবার তাঁর কাঁধেই বড় দায়ীত্ব তুলে দিল বিজেপি সরকার (BJP Government)। জনা যাচ্ছে, এবার রাজ্য সরকারের ‘ইনফরমেশন অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স, স্পোর্টস অ্যান্ড ইয়ুথ সার্ভিস’ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হয়েছে রুদ্রনীলকে।
রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বে রুদ্রনীল ঘোষ
দলের তরফ থেকে গুরু দায়িত্ব পেয়ে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তিনি বললেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এবং লোকসভার স্পিকার তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমাকে নিয়ে এই কমিটিতে মোট ১৫ জন রয়েছেন। যারা রয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত গুণী মানুষ। আগের সরকারের সময় এই কমিটিগুলো কোনো কাজ করত না। এই কমিটির কাজ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে তুলে নিয়ে এসে মন্ত্রকের সাথে সেতু তৈরী করা। ফলত তথ্য এবং সংস্কৃতি বিভাগ যেটার সাথে আমাদের আবেগ এবং পরম্পরা জড়িয়ে রয়েছে সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।’
প্রাক্তন রাজ্য সরকারকে তুলোধনা করে রুদ্রনীল বললেন, ‘আগের সরকারের পলিসি ছিল, কাজ করো, কাজ করো অভিনয় করো, কিন্তু কাজ কোরো না। কাজ করার বিনিময়ে মানুষের ট্যাক্সের টাকা যা আসে তা পকেটে ভরো, নইলে লুঠ করো। এই বিষয়ে তো কোনো দ্বিমত নেই, কোনো রাজনৈতিক দলেরই নেই। এমনকি এখন তৃণমূলের লোকেরাও জানে তারা কি সৎ ছিল চুরি জোচ্চুরির ব্যাপারে। তাদের মধ্যে বহু বিধায়ক দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন। আগের সরকার নিজেদের কিছু সুযোগ সুবিধার জন্য এই কমিটিকে সেভাবে কাজে লাগায়নি।’
আরও পড়ুনঃ নেতাজিকে অপমান! শ্যামবাজারের নেতাজি মূর্তিতে মাল্যদান করে বিজেপিকে দুষলেন কুণাল ঘোষ
এদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবশেষে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সুপ্রীম কোর্ট। এপ্রসঙ্গে রুদ্রনীল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘কে বাইরে গেল এই নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। বর্তমান সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে পাহাড় প্রমাণ পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এটাই কাজ, এটাই দায়িত্ব। ফলত কে কোথায় চোখ, কান, গলা দেখাতে যাবে আর যাবে না, এতে আমি আর কী বলব। আদালত বললে লোকে সুযোগ পাবে যাওয়ার, আদালত না বললে যাবে না।’
একইসাথে তাঁর সংযোজন, ‘উনি পালিয়ে যাচ্ছেন আর ফিরবেন না একথা আমরা কেন বলব সারা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বলছে। আপনারা সাংবাদিকরাও বলেছিলেন মুখে স্বীকার করেন না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির লোকজনও বলে আমাদের বাড়ির লোকটা পালিয়ে যাচ্ছে ধর-ধর। তো আপনারা বলেন না যখন বলেন না। কে কোথায় গেল, কোনো নবযৌবনের দুত নাকি? যে তাকে নিয়ে কথা বলতে হবে। অত সময় কোথায়!’
আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম-ডেডলাইনের মধ্যে নিয়োগ সম্পূর্ণ হচ্ছে না! ২৬ হাজার চাকরি নিয়ে বিরাট ঘোষণা SSC-র
প্রসঙ্গত নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বারবার অভিযোগ উঠছে বর্তমান রাজ্য সরকার নাকি বিরোধী রাখতে চাইছে না। এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে রুদনীল বলেছেন, ‘ওদের কথাবার্তা দুর্ভাগ্যজনক এবং চূড়ান্ত যে মিথ্যে তা সবাই জানে। সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় এই সরকারের সময় যেভাবে শাসক এবং বিরোধী প্রশাসনিক দায়িত্বের যে সমন্বয় তা দেখাচ্ছেন, যে সৌজন্য দেখাচ্ছেন সেটাই ভারতীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’
রুদ্রনীলের অভিযোগ, ‘আগের সরকার লুঠ করেছিল। তাই অধিকাংশ জায়গাতেই তারা যে পরিমাণ রয়েছে তার বিনাশ করা হচ্ছে।’ একইসাথে তার সংযোজন, ‘শুধু জানি পিসিপন্থী আর ভাইপো পন্থী! এদের সবথেকে বড় মিল হচ্ছে এরা লুঠপন্থী। এর বাইরে কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে আমরা আলোচনা করতেই চাই না।’ আর কি বললেন তিনি? দেখে নিন ভিডিওতে।













