বাংলাহান্ট ডেস্ক: আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের (India) রাজধানীতে শুরু হয়েছে ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ১৪ ও ১৫ মে আয়োজিত এই দু’দিনের সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন সের্গেই লাভরভ এবং আব্বাস আরাঘচি। সূত্রের খবর, সম্মেলনের ফাঁকেই তাঁদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম রাশিয়া ও ইরানের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মোদির বৈঠক হওয়ায় তা আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধের আবহে ভারতে (India) উপস্থিত রাশিয়া ও ইরানের বিদেশমন্ত্রী!
বৃহস্পতিবার বৈঠকের প্রথম দিনে ব্রিকসভুক্ত বিভিন্ন দেশের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচির বক্তব্য। তিনি প্রকাশ্যে আমেরিকার বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, ইরানের উপর মার্কিন ‘আগ্রাসন’ এবং ‘গুন্ডামি’ গোটা বিশ্ব দেখেছে। তাঁর দাবি, শুধু ইরান নয়, এই বৈঠকে উপস্থিত বহু দেশই অতীতে একই ধরনের চাপ এবং জবরদস্তির মুখোমুখি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন: দীর্ঘ ১০ দিনের জল্পনার অবসান! ভিডি সতীশনকে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী করল কংগ্রেস
আরাঘাচি তাঁর ভাষণে আরও বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে দাঁড়ানোর এখনই সঠিক সময়। তাঁর কথায়, “মার্কিন আগ্রাসনের মতো কাজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়া উচিত।” ব্রিকস মঞ্চ থেকে আমেরিকার বিরুদ্ধে এমন কড়া বার্তা দেওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান চাইছে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলিকে পাশে নিয়ে একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে।
বুধবার গভীর রাতে দিল্লি পৌঁছন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে। জানা গিয়েছে, সেই বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ খোলা রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। কারণ, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়লে তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন:উচ্চ মাধ্যমিকে নম্বর কম? পাশ করেও ফের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ, বড় সিদ্ধান্ত WBCHSE-র
অন্যদিকে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লেভরভের উপস্থিতিও এই সম্মেলনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির মধ্যে রাশিয়া, ইরান ও ভারতের (India) এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রিকস সম্মেলনের এই বৈঠক শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাত ও শক্তির ভারসাম্য নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।













