সোনা-রুপোর ব্যবসা ছেড়ে ইউটিউব ও চাষাবাদেই বাজিমাত! প্রতিবছর ২৫ লক্ষ টাকা আয় সন্তোষের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার মাজলে কার্ভের যুবক সন্তোষ যাদব প্রথাগত পারিবারিক ব্যবসার নিরাপদ পরিসর ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটার সাহস দেখিয়েছেন সাফল্যও (Success Story) পেয়েছেন। প্রয়াগরাজে তাঁদের সোনা-রূপার ব্যবসা ছিল সুপ্রতিষ্ঠিত, কিন্তু কৃষিকাজের প্রতি ছোটবেলার টানই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরিবারের আপত্তি, প্রতিবেশীদের কটাক্ষ—সবকিছুকে উপেক্ষা করে তিনি গ্রামে ফিরে আসেন। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে “সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ছেড়ে যাত্রীবাহী ট্রেনে ওঠা”র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন, কিন্তু সময় প্রমাণ করেছে, সেটিই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে সঠিক পদক্ষেপ।

সন্তোষ যাদবের অসাধারণ সফলতার কাহিনি (Success Story)

২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সন্তোষ মহারাষ্ট্রের নানা প্রান্তে ঘুরে সফল কৃষকদের সঙ্গে দেখা করেন। বাইকে করে দীর্ঘ সফরে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, অধিকাংশ কৃষক এখনও পুরোনো পদ্ধতি বা প্রতিবেশীর অনুকরণে চাষ করেন। সঠিক নির্দেশনা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ব্যবহারিক তথ্যের অভাবই ছিল প্রধান সমস্যা। সেই উপলব্ধি থেকেই কৃষকদের জন্য সহজ ভাষায় আধুনিক কৌশল তুলে ধরার ভাবনা জন্ম নেয় তাঁর মনে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি বন্ধুবর আকাশ যাদবের সঙ্গে ২০১৮ সালে “ইন্ডিয়ান ফার্মার” নামে ইউটিউব চ্যানেল শুরু করেন।

আরও পড়ুন: ৮ উইকেট, ৩ টি মেডেন ওভার! নির্বাচকদের জবাব দিয়ে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে দাপট মহম্মদ শামির

চ্যানেলটির উদ্দেশ্য ছিল জৈব চাষ, আধুনিক যন্ত্রপাতি, সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও বাজারব্যবস্থার বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা। ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। বর্তমানে তাঁদের ফলোয়ার সংখ্যা ১ কোটিরও বেশি। মাঠে কাজের পাশাপাশি ভিডিও তৈরি, সম্পাদনা ও আপলোড—সবকিছুই প্রথমদিকে নিজেরাই সামলাতেন তাঁরা। সকালে কৃষিকাজ, বিকেলে শুটিং, রাতে এডিটিং—এই কঠোর পরিশ্রমই তাঁদের সাফল্যের ভিত গড়ে দেয়। আজ এই প্ল্যাটফর্ম ও কৃষিকাজ মিলিয়ে সন্তোষের বার্ষিক আয় প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা, যা তাঁকে এক নতুন পরিচিতি দিয়েছে।

প্রযুক্তি ব্যবহারে সন্তোষ বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি ড্রোনের মাধ্যমে মাত্র ১০ মিনিটে এক একর জমিতে স্প্রে করতে পারেন, যেখানে আগে একজন শ্রমিকের পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগত। এতে সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। পৈতৃক ১১ একর জমিতে তিনি পরিকল্পিতভাবে ফসল ভাগ করেছেন। আখ, রপ্তানিযোগ্য আঙুর, টমেটো, ক্যাপসিকাম ও শসা—প্রতিটি ফসলের জন্য নির্দিষ্ট জমি বরাদ্দ করেছেন। আধা একর পলিহাউস নির্মাণ করে বছরভর উৎপাদনের ব্যবস্থাও করেছেন।

Santosh Yadav's Success Story will impress you.

আরও পড়ুন: পরিবর্তন হয়েছে সরকার! বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি খুঁজবেন তারেক? কার নাম সবথেকে এগিয়ে?

সন্তোষ যাদবের সাফল্যের গল্প শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিক দৃঢ়তারও উদাহরণ। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও নিজের স্বপ্নে অটল থেকে তিনি প্রমাণ করেছেন, আধুনিক কৃষিই হতে পারে লাভজনক ও সম্মানজনক পেশা। তাঁর উদ্যোগ বহু তরুণকে কৃষিক্ষেত্রে নতুন করে ভাবতে অনুপ্রাণিত করছে। ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই যাত্রা আজ গ্রামীণ ভারতের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।